বিশ্বের কঠোর আইনের ১০ টি দেশ

কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা মানা হয় যে ১০ টি দেশে; Image: wallpapercave.com

বহুল প্রচলিত একটা কথা হয়ত আমাদের সবারই পরিচিত, “Ignorance of law is not an excuse” অর্থাৎ আইনটি জানতেন না এই অজুহাত দেখিয়ে আপনি কখনই পার পাবেন না। তাই যে কোন দেশে যাওয়ার সময় সেখানকার স্থানীয় আইন জেনে নেয়াটা খুবই জরুরী, আর বিশেষ করে সে দেশটি যদি কঠোর নিয়ম কানুন আর আইন শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে শাসিত হয়। হ্যাঁ! আজকে আমরা কথা বলব এমনই দশটি দেশ সম্পর্কে যাদের আইন কানুনগুলো একটু বেশিই কঠোর। এই দেশগুলোর মধ্যে কেউ হয়ত তাদের প্রথা অনুযায়ী শাসন করে আবার কেউ হয়ত ধর্মীয় দৃষ্টি কোন থেকে শাসন কার্য পরিচালনা করে। তবে সে যাই হোক না কেন, কখনো কখনো তাদের আইনগুলো সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে একটু বেশিই কঠোর বলে মনে হতে পারে।

১। সৌদি আরব

যদিও বর্তমান সময়ে আমেরিকার অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র সৌদি আরব, তবে এই দুটি দেশের আইন ও শাসনের মধ্যে পার্থক্য একদম রাত আর দিনের মতই তীব্র। সৌদি আরবের আইন কানুন প্রচণ্ড রকম কঠোর, এমনকি বহিরাগতদের জন্যও সেখানেই একই ধরনের বিধান কার্যকর। আর সেই বিধানের বেশীরভাগগুলোই নারীদেরকে কঠিন শাসনের বাঁধনে আবদ্ধ করে রাখে। তার মধ্যে কয়েকটি অবাক করা নিয়ম হল, নারীদের সেখানে গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই। এমনকি আত্মীয় ছাড়া কোন পুরুষের সাথে কথা বলার অনুমতি পর্যন্ত তাদের নেই এবং ঘরের বাইরে সাধারণ পোশাক পরিধান করে বের হওয়ারও নেই কোন অনুমতি। সেখানে আপনি যখন ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করবেন তখন দেখতে পাবেন বেশ সীমাবদ্ধ আকারেই কেবল আপনি এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া মিডিয়াও সেখানে বেশ কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে। সরকারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের বক্তব্য দেয়ার অপরাধে একজন সম্পাদক পর্যন্ত এরেস্ট হতে পারেন!

২। এরিট্রিয়া

এই দেশটি ম্যাপে একদম আফ্রিকার উপরের দিকে অবস্থান করছে। বিগত ২৬ বছর আগে ইথোপিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভ করার পর দীর্ঘদিন ধরে এখন পর্যন্ত সেখানে শাসন করছেন প্রেসিডেন্ট আইসাইয়াস আফেওয়েরকি। মিডিয়া এবং খবরের উপরে এই প্রেসিডেন্টের রয়েছে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। কে কি লিখছে এবং কি লিখবে এগুলো সবই সরকারের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। এমনকি এই নীতি এতই কঠোর ভাবে মিডিয়ার উপর আবর্তিত যে এখানকার কোন সংবাদ প্রেসিডেন্ট অফিস থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার আগে প্রকাশিত হয় না। এছাড়া এখানকার ধর্ম পালনের ব্যাপারেও রয়েছে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, কেউ এখানে জনসম্মুখে পূজা অথবা অরাধনা করতে পারে না। কঠিন সকল আইন ও শাসনের কেউ যদি অবাধ্য হতে চায় তবে তার জন্য তাকে গুনতে হবে মাশুল। আর সেই মাশুল জীবন পর্যন্ত কেড়ে নিতে পারে! হ্যাঁ! এই দেশে নির্দিষ্ট কিছু আইন না মেনে চললে আছে গুলি করে মেরে ফেলার বিধান।

৩। চায়না

চায়নার ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এক ঝড়ের মত পুরো বিশ্বকে যে কোন সময় দখল করে নিতে পারে। চায়না অন্যান্য দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যের ব্যাপারে সর্বদা উন্মুখ থাকে, এছাড়া তাদের সার্বভৌমত্বে রয়েছে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। তবে একটা বিষয় সকলকে মাথায় রাখতে হবে যে চায়না এখন পর্যন্ত একটি কম্যুনিস্ট দেশ তাই এখানে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করতে পারেনা। সরকার বিরোধী যে কোন ধরনের প্রচারণাকে এখানে মুহূর্তের মধ্যে খুঁজে বের করা হয় এবং চিরতরে সেই প্রচারণাকে থামিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া চায়নায় পশ্চিমা ধারার চিন্তা ভাবনা এবং জীবনে যাপনের উপর রয়েছে রীতিমত নিষেধাজ্ঞা। এখানকার গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার উপর রয়েছে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।

৪। নর্থ কোরিয়া

স্বৈরশাসনের ক্ষেত্রে নর্থ কোরিয়ার রয়েছে বহুল পরিচিতি। সাউথ কোরিয়া এবং আমেরিকা ছাড়া অন্য যে কোন দেশ থেকে সেখানে ভ্রমণকারীরা যেতে পারে, তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে মজার বিষয়টি হল কেউ সে দেশে পা রাখা সাথে সাথেই তার সাথে একজন ব্যক্তি নিয়োগ করে দেয়া হয়, যে কিনা তার গাইড হিসেবে কাজ করবে। তবে সব কিছু ঘুরিয়ে দেখানোই এই গাইডের একমাত্র কাজ নয় বরং ভ্রমণকারী সরকারের বিরুদ্ধে যাতে করে কোন রকম প্রচার প্রচারণা চালাতে না পারে এবং কোন ধরনের নিয়ম ভঙ্গ করে ফেলতে না পারে সেদিকেও কড়া নজর রাখে এই গাইডরা। ভ্রমণকারী যখন দেশ দেখে বিদায় নিয়ে প্লেনে উঠে, তার আগ পর্যন্ত এই গাইড সবসময়ের জন্য তার সাথে সাথে থাকে।

প্রশাসনের দ্বারা এই দেশে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়, এমনকি টিভি, মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়ার উপর পর্যন্ত চলে কড়া নিয়ন্ত্রণ। এখানের জন সাধারণ কেউ ইন্টারনেট ব্যাবহার করতে পারেন না, শুধুমাত্র প্রশাসনিক কিছু ব্যক্তি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন তবে তাদের ব্যবহারের উপরেও থাকে পূর্ণ নজরদারী।

জনসাধারণের এখানে কোন ধরনের স্বাধীনতা নেই। এমনকি অবিবাহিত নারী পুরুষের মধ্যে কোন ধরনের যৌন সম্পর্কের উপর এখানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা আছে। এছাড়া কি ধরনের জামা কাপড় পড়া যাবে এমন কিছু নির্দেশনাও রয়েছে সরকার থেকে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে এই দেশে নারীরা প্যান্ট পরতে পারে না এবং ছেলেদের প্রতি ১৫ দিন পরপর চুল কাটতে হয়।

সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে এখানে রয়েছে কঠিন শাস্তির বিধান।

৫। ইরান

অন্যান্য অনেক দেশের মতই এখানে আদর্শগত নীতিমালা দিয়ে দেশ পরিচালন করা হয় না বরং ধর্মীয় নিয়ম কানুনের উপর ভিত্তি করে ইরানের আইন কানুন পরিচালনা করা হয়ে থাকে যেটাকে শরিয়া আইন বলা হয়। এছাড়া সরকারের বিরুদ্ধচারন এবং প্রচারণা এখানে সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। আপনি ইরানে বসবাস করে সেই দেশের সরকার সম্পর্কে একদম সামান্য কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেই আপনাকে অনেক সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক, গুগুল প্লাস এবং ইউটিউব এখানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পোশাক এবং আচার আচরণেও এখানে রয়েছে ধর্মীয় শাসনের কড়া প্রভাব। যেমন পুরুষদের এখানে ধর্মীয় বিধান অনুসারে চুল এবং দাঁড়ি কাটতে হয় এবং নারীরা পরিপূর্ণ হিজাব পরিধান করা ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে পারে না। এমনকি পশ্চিমা সঙ্গীতের উপরেও রয়েছে এখানে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা।

৬। সিরিয়া

সরকার এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত সংঘাতের কারণে সিরিয়ার সহিংসতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধরনের সংঘাতের কারণে পুরো দেশ জুড়ে বিরাজ করছে অস্থিরতা এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। বিশেষ করে মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ, ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ল্যান্ড ফোনের ব্যাবহার করার মত অবস্থাতে সেখানের জনসাধারণ একদমই নেই বললেই চলে। বহির্বিশ্ব থেকে কোন ধরনের সাংবাদিক সেই দেশে প্রবেশ করতে পারে না এবং স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের উপরেও রয়েছে কড়া নজরদারী। সিরিয়ার কোন সাংবাদিক যদি সরকারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের প্রচার প্রচারণা করে তবে তাদের উপর নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন এমনকি তাদেরকে মেরেও ফেলা হয়ে থাকে।

৭। ইকুটেরিয়াল গিনি

বিশ্বের সবদেশ শিক্ষার উপর জোর দেয় সেটা আমরা অনেকেই জানি, তবে এই দেশটি এমনই এক দেশ যেখানে পড়ালেখাকে নিরুৎসাহিত করা হয়ে থাকে। পুরো দেশের কোথাও কোন বইয়ের অথবা খবরের কাগজের দোকান খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই দেশে বহির্বিশ্ব থেকে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা একদমই নেই বললেই চলে, কেননা এখানে বিদেশীদের তেমন একটা ঢুকতে দেয়া হয় না। ১৯৭৩ সালের একটা সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আসা এখানকার প্রেসিডেন্ট টেওডোরো ওবিয়াং  ১৯৮২ সালে তৈরি করা সংবিধানের মাধ্যমে সর্ব ক্ষমতার অধিকারী হয়ে আছেন। তিনি যে কোন সংসদীয় সদস্যকে যে কোন সময় নিয়োগ দিতে পারেন এবং বহিষ্কার করতেও পারেন। অন্যান্য অনেক স্বৈরতান্ত্রিক দেশের মত এই দেশেও টিভি এবং রেডিওর উপর রয়েছে কড়া নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া যে সকল বিদেশীদের মাঝেমধ্যে এই দেশে ঢুকতে দেয়া হয় তাদের উপরেও থাকে কড়া নজরদারী, যাতে করে তারা দেশের কোন কিছু ভিডিও করতে না পারে এবং দেশটির জনসাধারণের দারিদ্র সীমার নিচে অবস্থান করার কথা বহির্বিশ্বে প্রকাশ না পায়।

৮। কিউবা

কিউবিয়ান চুরুট/সিগার এবং ফিদাল ক্যাস্ট্রোর জন্মস্থান হল এই দেশ, যার নাম কিউবা। মধুচন্দ্রিমা উদযাপনের জন্য অন্যতম প্রসিদ্ধ কিছু দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা কিউবা অন্যতম। সমুদ্র উপকূলীয় এই ভূস্বর্গ এবং চমৎকার ল্যাটিন মিউজিকের এই দেশটিও কিন্তু একটি অন্যতম কম্যুনিস্ট দেশ এবং এই দেশে অবস্থান করে কেউ যদি সরকার বিরোধী কোন ধরনের বক্তব্য প্রদান করে তাহলে তাকে পোহাতে হবে অনেক ধরনের ঝামেলা। ইন্টারনেট ব্যাবহারের উপর এখানে কঠোর নজরদারী চলে এবং কেউ যদি সরকার বিরোধী কোন কিছু লিখে তবে তাকে জেলের ঘানী টানতে হবে এটা নিশ্চিত।

৯। জাপান

অনেকেই মনে করে থাকেন জাপানে বর্তমান শাসন ব্যবস্থার উপরে পূর্বের সামন্ততন্ত্রের খুবই প্রভাব রয়েছে। জাপানে ঘর, স্কুল, অফিস সব ধরনের কাঠামোতেই কর্তৃত্বের শ্রেণী বিভাজন বিদ্যমান  অর্থাৎ সেখানে সবাই তার উপরের কর্তৃত্বের ব্যক্তিটিকে সর্বোচ্চ সম্মান করে থাকে। জাপানে নিয়ন কানুনের উপর রয়েছে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রত্যেকটি অবকাঠামোকে মেনে চলতে হয় সকল নিয়ম কানুন, কোথাও নেই একটু খানি ফাঁকি দেয়ার অবসর। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে বোম্বিং নিয়েও এই দেশে কথা বলা নিষেধ।

১০। সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুরের সরকার সেখানে বেশ কিছু আইন এবং নিয়ম তৈরি করে দিয়েছে যেগুলোর অবাধ্য হলেই আপনাকে ভোগ করতে হবে কঠোর ফলাফল। তবে এই ধরনের কঠোর নিয়ম কানুনের জন্যই হয়ত সিঙ্গাপুরের জীবনযাত্রাকে সবচাইতে আরামদায়ক এবং বিলাসবহুল বলা হয়ে থাকে। সিঙ্গাপুরের রাস্তায় চুইং গাম খাওয়া নিষেধ আর বুঝতেই পারছেন চুইং গাম যদি কোন ভাবে রাস্তায় ফেলে দেন তাহলে আপনাকে গুনতে হবে কড়া জরিমানা। এছাড়া জনসম্মুখে ধূমপানের জন্য এই দেশে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। সিঙ্গাপুরের ড্রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে কড়া নিয়ম, এমনকি যে কোন সময় যে কাউকে ড্রাগ টেস্ট করানোর অনুমতি পুলিশের আছে। আর এই ধরনের কঠোর সকল নিয়ম কানুন সেখানকার স্থানীয়দের জন্যই ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়, সেখানে ভ্রমণ করার জন্য আসা দর্শনার্থীদের জন্যও এইসব নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য।

অন্যান্য আরো কিছু দেশ যেগুলো কঠোর নিয়ম কানুনের দ্বারা আবদ্ধঃ

যখন ব্যাপারটি আসে ড্রাগ নিয়ে, তখন মালয়েশিয়া এই বিষয়ে সবচাইতে কড়া। সাত আউন্সের উপর গাঁজা অথবা অর্ধেক আউন্সের উপর হেরোইনসহ যদি আপনি কোনভাবে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তাহলে পৃথিবীর কোন কিছুই আপনাকে বাঁচাতে পারবে না। এই ধরনের অবস্থায় ধরা পড়লে সেখানে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়ে থাকে। এই ড্রাগ নিয়ে ভিয়েতনামেরও রয়েছে বেশ কড়া নিয়ম কানুন। ড্রাগ আইনের মাধ্যমে আপনাকে এক ধরনের বিশেষ রিহাব সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়া হবে। তবে সেখানে ড্রাগ ক্রিমিনালদের মোটেও সাধারণ অবস্থায় রাখা হয়না, তাদের উপর সার্বক্ষণিক অত্যাচার এবং নির্যাতন চলতেই থাকে।

নর্থ কোরিয়ার মতই সুদানে নারীরা ট্রাউজার অথবা প্যান্ট পরতে পারেন না। অন্যথায় শরিয়া আইনের মাধ্যমে আপনাকে পেতে হতে পারে বেশ কড়া শারীরিক শাস্তি। এছাড়া লেবাননে আপনি যদি কোন ধর্মের বিরুদ্ধে অবমাননার অপরাধে আটকা পড়েন তাহলে আপনাকে তিন বছরের মত জেলে থাকতে হবে। এই ধরনের আইন সেখানে তৈরি করা হয়েছে কেননা এই দেশে সব মিলিয়ে প্রায় ১৭টির মত ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস।

লেখক- ইকবাল মাহমুদ 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট