‘আমাকে দেখেই বাংলাদেশী-আমেরিকান পরবর্তী প্রজন্ম রাজনীতির আগ্রহ পাবে’

‘আমাকে দেখেই বাংলাদেশী-আমেরিকান পরবর্তী প্রজন্ম রাজনীতির আগ্রহ পাবে’ পেনসিলভেনিয়ার ফান্ড রেইজিং এ নীনা আহমেদ

‘আমাকে দেখেই বাংলাদেশী-আমেরিকান পরবর্তী প্রজন্ম রাজনীতির আগ্রহ পাবে’
পেনসিলভেনিয়ার ফান্ড রেইজিং এ নীনা আহমেদ

বাংলা ইনফোটিউ, নিউইয়র্ক: পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের লে. গভর্ণর পদে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন লড়াইয়ে অবতীর্ণ বাংলাদেশী-আমেরিকান ড. নীনা আহমেদ বলেন, ‘আমি বাংলাদেশী, আমি আপনাদেরই সন্তান। আমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। তাই আমি কোন ভয় পাই না। অন্যায়ের কাছে আমি কখনও মাথা নত করিনি। আপনারাই আমার সাহস। এই পদে থেকেই আমি ক্মুনিটির জন্য লড়তে চাই। আমাকে দেখেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিখবে এবং এই দেশের মূলধারার রাজনীতির সাথে নিজেদের জড়াবে।’
গত ১২ মার্চ সোমবার ড. নীনার সমর্থনে ফিলাডেলফিয়া সিটিতে সর্বস্তরের প্রবাসীদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। “আমেরিকান বাংলাদেশী কমিউনিটি অব ওয়েস্ট ফিলাডেলফিয়া’’র ব্যানারে স্থানিয় ইন্ডিয়ান সিজলী রেস্টুরেন্টে এ আয়োজন হয়। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন মোহাম্মেদ শহীদ এবং সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো. হারিস। বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. জিয়াউদ্দীন আহম্মেদ, ডাঃ ফাতেমা আহম্মেদ, ডাঃ আব্দুল মালেক, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মীর হোসেন এবং সৈয়দ সিরাজ । আগামি ৩১ মার্চ নিউইয়র্কের বেলাজিনোতে বেলা ৩ টায় নীনা আহমেদ এর ফান্ড রেইজিং হওয়ার কথা।

১২ মার্চ সোমবার ড. নীনার সমর্থনে ফিলাডেলফিয়া সিটিতে সর্বস্তরের প্রবাসীদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। “আমেরিকান বাংলাদেশী কমিউনিটি অব ওয়েস্ট ফিলাডেলফিয়া’’র ব্যানারে স্থানিয় ইন্ডিয়ান সিজলী রেস্টুরেন্টে এ আয়োজন হয়।

পেনসিলভেনিয়ার এই ফোরামে নীনা বলেন, ‘বিগত সময়ে আমি মার্কিন সরকারের নানা পদে ছিলাম। গত ২৫ বছর ধরেই আমি পেনসিলভেনিয়ার বিভিন্ন প্রশাসনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি, নাগরিকদের ন্যায্য দাবি এবং অধিকার আদায়ের জন্য লড়েছি। এখন ক্মুনিটির বিভিন্ন অসহায় নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন,স্বাস্থ্য সেবা, উচ্চ শিক্ষার ব্যয় সংকোচন,স্কুলে শিক্ষার্থিদের নিরাপদ অবস্থান, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঠিক দিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য পেনসিলভেনিয়ার লেফটেন্যান্ট গর্ভনর পদে লড়তে চাচ্ছি । তাই আপনাদের কাছে আমি আসন্ন প্রাইমারি নির্বাচনে (দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচন) ডেমোক্রেট প্রার্থি হিসাবে ভোট কামনা করছি । আপনারা যদি আমাকে সাহস দেন এবং পাশে থাকেন তাহলে এই জয় আমাদেরই হবে ইনশাল্লাহ ।’

উত্তর আমেরিকায় নীরব সমাজকর্মী হিসেবে বহৃল পরিচিত এবং একাত্তরের শহীদ পরিবারের সন্তান জিয়াউদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ‘আজ যেভাবে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা দলমতের উর্ধে উঠে নীনার জন্য এগিয়ে এসেছে,ন তাতে আমি আশাবাদী যে, নিনা আগামি মে মাসের প্রাইমারিতে জয়যুক্ত হবে ইনশাল্লাহ ।’
জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘আজ শুধু পেনসিলভেনিয়াতেই নয়, উত্তর আমেরিকার সমস্ত প্রবাসি বাংলাদেশিরা যে যেখানে আছে সবাই নিনাকে এই পদে দেখতে চায়। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্টেট থেকে নীনার তহবিল সংগ্রহের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করা হচ্ছে। আগামি ৩১ মার্চ নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে একটি বড় তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে ।’
মেধাবি বিজ্ঞানী হিসেবে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া ড. নীনা গত ২৫ বছরেরও অধিক সময় যাবত অভিবাসী-সমাজের অধিকার ও মর্যাদা আদায়ের লড়াইয়ে মাঠে রয়েছেন। সর্বস্তরের মানুষের সাথে সম্পর্ক গভীর হওয়ায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ড. নীনাকে এশিয়ান-আমেরিকান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও করেছিলেন। এরপর ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালনকালেই কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট পিএ-১ থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। সাথে সাথে পদত্যাগ করেন ডেপুটি মেয়রের পদ থেকে। এরইমধ্যে ড. নীনাকে ঠেকানোর চেষ্টায় তার কংগ্র্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট ভেঙ্গে চ’র্ন করা হয় অর্থাৎ ড. নীনার ভোট ব্যাংকে চিড় ধরানো হয়। এ অবস্থায়ই তিনি কংগ্রেসে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা ছেড়ে দিয়ে আরো বড় পরিসরে অঙ্গরাজ্য লে. গভর্ণর পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট