যে ৫টি অ্যাপ আপনাকে করে তুলবে আরো দক্ষ

অনেক অ্যাপ সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি নিজেকে করে তুলতে পারেন আরও দক্ষ

সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, একজন স্বাভাবিক মানুষ গড়ে দিনে প্রায় ৫ ঘন্টা তার স্মার্টফোনের সাথে সময় কাটায় এবং এই সময়ের বেশির ভাগটাই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ অ্যাপে তারা অতিবাহিত করে। সুতরাং এটা বলাই বাহুল্য যে আজকের দিনে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। কেমন হয় যদি এই স্মার্টফোনই আপনার কর্ম-দক্ষতাকেও আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়? হ্যাঁ, আজকে আপনাদের এমনই ৫টি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ সম্পর্কে জানাতে যাচ্ছি, যা ব্যবহার করে আপনি আপনার কর্ম-জীবন বা ছাত্র-জীবন উভয় ক্ষেত্রেই অতি গুরুত্ত্বপূর্ন কিছু বিষয়ে হয়ে উঠতে পারবেন আরো বেশি দক্ষ। তাহলে জেনে নেই সেই অ্যাপ গুলো সম্পর্কে-  

১. গুগল কীপ (Google Keep)

মার্কিন এক সফল উদ্যোক্তার একটি উক্তি কর্পোরেট দুনিয়ায় ব্যপক সাড়া ফেলে দিয়েছিলো। উক্তিটি ছিলো “If You Aren’t Taking Notes, You Aren’t Learning” অর্থাৎ আপনি যদি নোট না নিয়ে থাকেন, আপনি কিছুই শিখছেন না। সুতরাং এটা বলা যায় যে, শেখার উদ্দেশ্যে কোন বিষয় মনে রাখতে চাইলে নোট নেয়ার কোন বিকল্প নেই। আর সেক্ষেত্রে আপনার চাই একটি নোটবুক এবং একটি কলম যা সবসময় আপনার সাথে নাও থাকতে পারে। সমাধান দিচ্ছে গুগলের তৈরী গুগল কীপ নামের অ্যাপটি। এই অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি আপনার ক্লাস কিংবা মিটিং, লিস্ট কিংবা রিমাইন্ডার যেকোন বিষয় টুকে রাখতে পারবেন খুবই সহজে। নানা রঙে রঙিন এই অ্যাপে আপনি ভয়েস নোটও রেকর্ড করতে পারবেন অর্থাৎ আপনি যা বলেবেন সেটাই নোটে যুক্ত হয়ে যাবে। এছাড়া আপনার গুগল একাউন্টের সাথে সংযুক্ত থাকার কারণে আপনি গুগল ড্রাইভের মাধ্যমে যেকোনো সময় এই তথ্যগুলোতে এক্সেস করতে পারবেন।

App Download link: Here

২. ডাব্লিউ পি এস অফিস (WPS Office)

ডকুমেন্ট রাইটিং কিংবা এক্সেলে হিসাব-নিকাস, এগুলো এখন আমাদের দৈনন্দিন কাজের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের প্রেজেন্টেশানে পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড প্রদর্শন করা এখন সাধারন একটি বিষয়। এই সবগুলো ফিচার আমরা ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপে যে সফটওয়্যারটির মাধ্যমে পেয়ে থাকি সেটি অফিস সফটওয়্যার নামে পরিচিত। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সেই অফিস সফটওয়্যার এখন আপনার পকেটে। গুগল প্লেস্টোরে একাধিক অফিস অ্যাপের মধ্যে সবদিক থেকে স্মার্ট অ্যাপটির নাম ডাব্লিউ পি এস অফিস। এই অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি ওয়ার্ড ডকুমেন্ট পড়তে এবং এডিট করতে পারবেন, এক্সেল ফাইলের যাবতীয় হিসেব আরেকবার মিলিয়ে নিতে পারবেন, পারবেন প্রেজেন্টেশন স্লাইড তৈরী করতে। এখানেই শেষ না, অ্যাপটি ব্যবহার করে আপনি যেকোনো পি.ডি.এফ. ফাইল খুব স্মুথলি অপারেট করতে পারবেন। একটি অ্যাপের মধ্যে এতসব ফিচার থাকার কারণে এটি এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড অফিস অ্যাপ যা কিনা প্লেস্টোর থেকে আপনি সম্পুর্ন ফ্রীতে ডাউনলোড করতে পারবেন।  

App Download link: Here

৩. ট্রেলো (Trello)

আপনি যদি একটি টিম হ্যান্ডেল করার দায়িত্ত্বে নিয়োজিত থাকেন, তাহলে আপনার টিমের লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে অ্যাপটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে তার নাম ট্রেলো। গুগল প্লেস্টোর থেকে আপনি এই অ্যাপটি ফ্রীতে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এই অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি যেকোনো প্রজেক্টের টাস্ক লিস্ট ডাউন ও অ্যালোকেট করতে পারবেন, টিমের অন্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন, কাজের অগ্রগতি চেক করতে পারবেন এবং মিটিং পরিচালনা করতে পারবেন। এই অ্যাপটির পি.সি ভার্শনও রয়েছে যেখানে আপনি এই ফিচারগুলোর পাশাপাশি আরো এডিশনাল কিছু ফিচার পাবেন। ট্রেলো অ্যাপটি বিশ্বের বড় বড় অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবহার করে থাকে।

App Download link: Here

৪. স্ল্যাক (Slack)

অ্যাপ জগতে এখন পর্যন্ত সোশ্যাল অ্যাপগুলোর মত এতটা জনপ্রিয়তা পায়নি আর কোন ধরনের অ্যাপ। আর এই সোশ্যাল অ্যাপের মধ্যে আবার চ্যাট ফিচারযুক্ত অ্যাপের চাহিদা সবার শীর্ষে। বিষয়টি মাথায় রেখে ২০১৩ সালে স্টূয়ার্ট বাটারফিল্ড নামের একজন ক্যানাডিয়ান ডেভলপার তার কিছু সহকর্মীদের সাথে নিয়ে ডেভলপ করেন স্ল্যাক নামের এই অ্যাপটি। চ্যাটের পাশাপাশি তারা বেশকিছু দাপ্তরিক ফিচার যুক্ত করেন এই অ্যাপে। উদ্দেশ্য ছিলো একটাই, ব্যবহারকারীরা যাতে চ্যাটের পাশাপাশি একই অ্যাপের মাধ্যমে তাদের অফিসিয়াল কাজগুলো সেরে ফেলতে সক্ষম হয়। বর্তমানে, স্ল্যাক অ্যাপের মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যক্তিগত অথবা কর্মস্থলের অনেক কাজ সেরে ফেলতে পারবেন, যেমন, অ্যানালেটিকাল সাপোর্ট, এইচ.আর টূল ওয়ার্কফ্লো চেক, বট-রিপ্লাই, বিজনেস প্ল্যানিং,  টাস্ক ম্যানেজিং, পৃথক টপিকে চ্যাট রুম তৈরি ইত্যাদি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে এরকম গুরুত্ত্বপুর্ন ফিচার থাকার কারণে অ্যাপটি তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং ব্যবহারকারীরা তাদের কাজের দক্ষতা অনেকটা বাড়িয়ে ফেলতে পেরেছেন।

App Download link: Here

৫. গুগল ট্রান্সলেট (Google Translate)

বর্তমান বিশ্বে পড়াশুনা কিংবা চাকরী উভয় ক্ষেত্রেই ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা আপনাকে এনে দিতে পারে একটি সফল ভবিষ্যৎ। এছাড়া যারা বিদেশ পাড়ি দেয়ার কথা ভাবছেন তাদের জন্য তো ইংরেজি জানা অনেকটা বাধ্যতামূলক। প্রতিনিয়ত আমাদের নানা ধরনের ইংরেজি শব্দের সাথে পরিচিত হতে হয় যার সবগুলোর অর্থ আমাদের জানা নাও থাকতে পারে। এটি একটি সমস্যা কিন্তু যেখানে সমস্যা সেখানেই গুগল। ২০০৬ সালে তারা গুগল ট্রান্সলেট নামে একটি ওয়েব ট্রান্সলেট সার্ভিস অবমুক্ত করে। এই সাইটটি এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে পরবর্তিতে তারা এই সার্ভিসটির অ্যান্ড্রয়েড ভার্শন প্লেস্টোরে ছাড়ে এবং সেখানেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। যদিও এই জনপ্রিয়তার পেছনে যথেষ্ট কারন রয়েছে। প্রথমত এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি শুধুমাত্র ইংরেজি না বরং ১০০ টির ও বেশি ভাষায় আপনার ইনপুট করা শব্দের অর্থ জেনে নিতে পারবেন। এছাড়া এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি সম্পুর্ন একটি বাক্য লিখে সেটি বিভিন্ন ভাষায় ট্রান্সলেট করতে পারবেন। ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে আপনি একটি শব্দের সমর্থক শব্দ এবং প্রতিশব্দ জেনে নিতে পারবেন। এখানেই শেষ না, আপনি চাইলে এই সার্ভিসটি ইন্টারনেট ছাড়া অর্থাৎ অফলাইনেও নিতে পারবেন। সুতরাং বুঝতেই পারছেন একটি ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই অ্যাপটি আপনাকে কতটা সাহায্য করতে সক্ষম।

App Download link: Here

লেখক- সালেহীন সাকিব

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট

সর্বাধিক পঠিত