featured বাংলাদেশ

রাজধানীতে যুবলীগ নেতাদের ক্যাসিনোর রাজত্ব1 min read

সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯ 3 min read

author:

রাজধানীতে যুবলীগ নেতাদের ক্যাসিনোর রাজত্ব1 min read

Reading Time: 3 minutes

সংবাদ মাধ্যমে এর আগে বেশ কয়েকবার জুয়া এবং ক্যাসিনো নিয়ে বেশ কিছু তথ্য প্রকাশিত হলেও এতদিন পর সেটা হয়ত প্রশাসনের চোখে পড়েছে। ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে, “ইটস বেটার লেট দ্যান নেভার” অর্থাৎ কখনো না করার চেয়ে দেরীতে করাও ভালো। আর তাই প্রশাসন এই ক্যাসিনো এবং জুয়ার বিরুদ্ধে অনেক দেরী করে পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও একদম না করার চেয়ে এটিই হয়ত ঢের শ্রেয়। 

গত বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার নিজস্ব বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হলেও তার ক্লাব “ইয়ংমেন্স ক্লাব” এ র‍্যাবের অভিযান শুরু হয়েছিল বিকেল চারটার কিছুক্ষণ পর থেকে। 

এই যুবলীগ নেতার গ্রেফতারের বিষয়টি প্রথম সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেন র‍্যাবের লেফট্যানেট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম। তার ভাষ্যমতে, অবৈধ ভাবে রাজধানীতে জুয়া এবং ক্যাসিনো চালানোর জন্য তাকে র‍্যাব গ্রেফতার করেছে। র‍্যাবের অন্য এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রেফতারের সময় এই যুবলীগ নেতার সঙ্গে তিনটি অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে যার একটি অস্ত্র ছিল লাইসেন্সবিহীন আবার বাকি দুটির লাইসেন্সেরও মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন প্রশ্ন আসতেই পারে দীর্ঘদিন ধরে এই ক্যাসিনোগুলো কীভাবে চালু ছিল এবং এই সম্পর্কে বাংলাদেশের আইন কি বলে? 

জুয়া, ক্যাসিনো—বাংলাদেশের আইন! 

আইনগতভাবেই বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে জুয়া নিষিদ্ধ, আর এই আইনের সূচনা হয়েছিল প্রায় ১৮৬৭ সালের দিকে। এতদিন আগেকার আইন এখন পর্যন্ত বলবত আছে এবং উক্ত আইনে বলা আছে, “কোন ঘর, স্থানকে জুয়ার জন্য ব্যবহার করা হলে তার মালিক অথবা দায়িত্বপ্রাপ্তর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।” শাস্তিস্বরূপ বলা হয়েছে তিন মাসের কারাদণ্ডের কথা। এছাড়া আরো বলা হয়েছে প্রশাসন এই ব্যাপারে তল্লাশি চালানোর জন্য প্রয়োজন অনুসারে বল প্রয়োগ করতে পারবে।

বিভিন্ন জুয়ার বা ক্যাসিনোর মালিকরা একত্র হয়ে এই আইনের একটি ফাঁক বের করার চেষ্টা করছিলেন বহুদিন থেকে। এমনকি তারা আদালতে রিট পর্যন্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে আদালত থেকে রায় দেয়া হয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া আবেদনকারীদের ব্যবসা বন্ধ করা যাবে না। ব্যাস, বের হয়ে গেল আইনের ফাঁক, যথাযথ আইন প্রক্রিয়া চলতেই থাকে আবার অপরদিকে জুয়াও চলতে থাকে। 

গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ! 

২০১৩ সালে গণমাধ্যমে এই রিট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তবু প্রশাসনের চোখে টনক পড়েনি একবারের জন্যও। অবশেষে ২০১৭ সালে একটি দৈনিক পত্রিকা এই অবৈধ জুয়ার ব্যবসা নিয়ে বড়সড় প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে বিস্তারিত সকল ধরনের তথ্য প্রদান করা হয়েছিল, সেখানে বলা হয়েছিল কীভাবে ক্লাবের মত করে বেড়ে ওঠা রেস্টুরেন্টগুলোতে প্রতিনিয়তই বসছে জুয়ার আসর। প্রতিবেদনটিতে প্রত্যেকটি জুয়া ব্যবসার ঠিকানাসহ বিস্তারিত বর্ণনা ছিল। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে গুলশানের ফু-ওয়াং ক্লাবে র‍্যাবের একটি অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে দুইজনকে অনুমোদন ছাড়া মদ বিক্রির জন্য গ্রেফতার করা হলেও নেয়া হয়নি ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে কোন “যথাযথ” আইনানুগ ব্যবস্থা! 

যেভাবে যুবলীগ নেতা খালেদ গেফতার হলেন! 

র‍্যাবের কাছে অনেকদিন থেকে অভিযোগ ছিল যে ইয়ংমেন্স ক্লাবে অবৈধ জুয়ার আসর বসে। সেই অভিযোগের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় এই অভিযান এবং অভিযান চলাকালীন সময়ে দেখা যায় আধুনিক বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমেও চলছিল জুয়া খেলা অর্থাৎ চলছিল ক্যাসিনো। এছাড়া ক্যাসিনো আর জুয়ার অবসরে মদ্যপান তো চলছিল প্রতিনিয়ত। 

র‍্যাবের মুখপাত্র সরওয়ার আলম আরো জানিয়েছেন, এই ক্লাবে আগত বেশীরভাগ মানুষরাই বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের কাছে নেই মদ্যপানের জন্য তৈরি বিশেষ লাইসেন্স অর্থাৎ অনুমোদন পত্র। উক্ত দিনে জুয়া খেলার সেই আসর থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা জব্দ করে র‍্যাব। ক্যাসিনোতে অভিযান চলাকালীন সময়ে আটক করা হয় প্রায় ১৪২ জনকে। 

পরবর্তীতে ফকিরাপুলে অবস্থিত ইয়ংমেন্স ক্লাবের সাথে মতিঝিল বাণিজ্য এলাকায় অবস্থিত ঢাকা ওয়ান্ডারস ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রসহ বনানীর গোল্ডেন ঢাকা নামক ক্লাবগুলো বন্ধ করে একদম সিল-গালা করে দেয়া হয়। 

একাধিক সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, এই ক্যাসিনোগুলো মহানগর ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন,  সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ, এ কে এম মমিনুল হোক এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরও বেশ কয়েকজন বড় বড় নেতারা মিলেই চালাতেন। তারা হয়ত মনে করতেন, এই সরকার দলীয় বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার কারণে তারা থাকবেন আইনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। 

দলের শুদ্ধি অভিযান! 

ক্ষমতাশীল দল আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়েদুল কাদের নারায়ণগঞ্জের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চলছে। আর তাঁরই ফলাফল স্বরূপ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন নেতাদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়েছে ব্যবস্থা। তবে তার মানে এই নয় যে মূল দলের বড় বড় নেতারা এই নজরদারির বাইরে থাকবেন। কেননা, নেতাদের উপরেও চলছে কঠোর নজরদারি। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রলীগ অথবা যুবলীগ কাউকেই কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সংবাদ মাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি কষ্ট করে দেশের উন্নয়ন করছি আর তার উপর কোন কালিমা লাগতে আমি দিব না”।

লেখক- ইকবাল মাহমুদ 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *