এপ্রিলে নিউইয়র্ক থেকে গ্রেফতার ২২৫ জন!

 

বাংলা ইনফোটিউব: চলতি এপ্রিলেই নিউইয়র্ক থেকে ইমিগ্রেসন এন্ড কাস্টমস পুলিশ -আইস কর্তৃক ২২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ভাগ্যে কি ঘটেছে এখনও পরিষ্কার তথ্য দেয়নি পুলিশ, তবে আইস এর তরফ থেকে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ককে নিরাপদ রাখার জন্যেই এই গ্রেফতার অভিযান। এদিকে, আইস এর কার্যক্রমকে রাজ্যসরকারের কাছে জবাবদিহিতা মূলক করার দাবীতে গন আদালত প্রতিষ্টার ডাক দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলি। এ লক্ষে শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) এক প্রতিবাদ আইস কে আইনের কাঠ গোড়ায় দাড় করানোর আন্দোলনে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমগুলি জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের বেশিরভাগ-ই স্টেটন আইল্যান্ড এর বাসিন্দা। নিউইয়র্ক স্টেট আদালতে হাজির করা, সিজার ভারগাস নামের একজন কাগজপত্রহীন অভিবাসীর তথ্য মতে গত ১১ এপ্রিল থেকে ১৪ তারিখের মধ্যে স্টেটন আইল্যান্ড থেকে অন্তত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে শুধু স্টেটন আইল্যান্ড নয়, পুরো নিউইয়র্ক থেকেই আটক কার্যক্রম অব্যহত আছে বলে জানা গেছে আইস সুত্রে। এই আটকে নানান ধরনের মানুষকে আইনের আওতায় নেয়া হচ্ছে। জানুয়ারীর ২৯ তারিখে সর্বপ্রথম দেশব্যাপী আটক অভিযানে নামে ইমিগ্রেশন পুলিশ। তখন, নিউইয়র্ক এর স্টেটন আইল্যান্ড এর সেভেন ইলিভেন স্টোরগুলিতে হানা দেয় তারা।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষী এবং অভিবাসন পুলিশ -আইস কে সবচে শক্তিশালী এবং অসীম ক্ষমতা দিয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর পর থেকেই আইস কার্যক্রমের শিকার হতে থাকেন অনেক কাগজপত্রহীন অভিবাসী। পর্যায়ক্রমে সকল কাগজপত্রহীনকে যুক্তরাষ্ট্রথেকে বের করে দেয়ার নীতির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রথমেই দাগী আসামী এবং যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত করার প্রমাণ আছে, তাদেরকেই আইস পাকড়াও করবে বলে বলা হয়েছিল। তবে আইস প্রদত্ত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ বা প্রমাণ নেই এমন গ্রেফতার বেড়েছে ১৫২ ভাগ। ২০১৭ সালে অপরাধ নেই এমন ৭৯১ জন ব্যাক্তিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যেটা ২০১৬ সালে ছিল ৩১৩ জন। অন্যদিকে, অপরাধ রেকর্ড আছে, এমন ব্যাক্তিদের বেলাতে আইস আরো বেশি সক্রিয়।  ২০১৬ সালে যেখানে আইস এর গ্রেফতার ছিল মোট ১০৩৭ জন, ২০১৭ সালে এসে সেটা বেড়ে দাড়ায় ২০০৬ জনে।

অনেক ক্ষেত্রেই আইস, গ্রেফতারের সময়ে নূনতম আইনী সুরক্ষার বিধিবিধান মানছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবার আর মানবাধিকার কর্মীদের। নিউইয়র্ক সিটি এবং রাজ্য প্রশাসনের তরফে কাগজপত্রহীনদের সুরক্ষাদেবার জন্য অঙ্গীকার করা হয়েছিল কিন্তু সেই উদ্যোগেও ভাটা পড়েছে। ট্রাম্প প্রসাশন, নিউইয়র্ক সহ অভিবাসীদের অভয়ারন্যের শহরগুলিতে কেন্দ্রীয় বাজেট কমিয়ে দিয়ে শায়েস্তা করতে চাই্ছে। নিউইয়র্ক সিটি অবস্য, কেন্দ্রীয় সকারকে কোন কাগজপত্রহীন নাগরিকদের তথ্য দেয়া হবে না বলে আগেই অবস্থান নিয়ে রেখেছে। তবে, সেগুলির উপর নির্ভর না করেই, আইস নিজস্ব পন্থায় তথ্য সংগ্রহ করে ধড়পাকড়ে মাঠে নেমেছে।

এই অবস্থায়, আইস কার্যক্রমকে শুধু ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা পালন নয়, বরং তাদের কাজ কর্মকে রাজ্য সরকারের জবাবদিহিতার মধ্যে আনার দাবীতে সংঘটিত হচ্ছে মানবাধিকার সংগঠন গুলি।

 

ডিটেনশন ওয়াচ নেটওয়ার্ক নামের একটি মানবাধিকার সংস্থার নিউইয়র্ক শহরে প্রধান দুই কর্মকর্তা, থমাস ডেকার এবং স্কট মেকোক্সিকে ইমিগ্রেশন পুলিশ গ্রেফতার করার পর, ঐ সংস্থার কর্মী এবং সেচ্ছাসেবকরা আইস এর ‘বিচার’ দাবী করে মাঠে নেমেছে। আইস অন ট্রায়াল- বা গনবিচারের মুখোমুখি আইচ ‘ হ্যাসট্যাগ দিয়ে তারা আগামি শুক্রবার এভিনিউ সি প্লাজার সামনে জনতা হাজির হয়ে আইস এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে আহবান জানিয়েছে। তাদের দাবী, আইস তার কার্যক্রমকে মানবতা বিরোধী হিসেবেই উল্লেখ করার সময় এসেছে, আর সময় এসেছে এই প্রতিষ্ঠানটিকে জনতার মুখোমুখি করার।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট