‘খোদার পরে, শেখ হাসিনাকে মানি, তিনি আমাকে যেতে বলেন নি’

বিশেষ সংবাদদাতা,

সরকারী দল আওয়ামী লিগের যুক্তরাষ্ট্র শাখায় গৃহবিবাদ চরমে। গত ৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলিগের প্রেসিডেন্ট পদে আছেন, সবীজ ওয়াজেদ জয় ঘনিষ্ট ডা সিদ্দিকুর রহমান। তার বিরুদ্ধে, সীমাহীন দূর্নীতি, দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আর বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার অভিযোগ এনে, অপসারন চেয়েছে দলের একটি অংশ। এমনকি সিদ্দিকুর রহমানকে ৯০ দিনের সময় দিয়ে এক তৃতীয়াংশ নেতাকর্মীর সাক্ষর সম্বলিত একটি চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলিগের জনসংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস। অবিলম্বে সম্মেলন ডেকে নেতৃত্ব পরিবর্তন না করা হলে, তলবী সভা ডেকে ডা সিদ্দিক কে অপসারন করা হবে বলেও জানিয়েছেন এই নেতা। জবাবে, সিদ্দিকুর রহমান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, এরা দলের সর্বনাশকারী। কিসের তলবী সভা আর কিসের সম্মেলন? – বলে পাল্টা প্রশ্নও রাখেন তিনি। সিদ্দিকুর রহমান বলেন ‘খোদার পরে আমি শেখ হাসিনাকে মানি। তিনি তো যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলিগে পরিবর্তন চান না, এরা চায় কোন স্বার্থে?’

সমস্যার সুত্রপাত অনেক দিন থেকেই। দু বছর আগে একবার সাবেক সাধারন সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান, ডাক্তার সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়েন। সেসময় হুলস্থল কান্ড বেধেছিল যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ নিয়ে। এক পর্যায়ে ডা সিদ্দিকুর রহমানের পক্ষে ই মেইল করে বিবৃতি দেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সেই যাত্রায় সাজ্জাদুর রহমানকে বহিষ্কার করে, নিজের আয়ত্বে নেন দলকে ডা সিদ্দিকুর রহমান।কিন্তু তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ কমেনি দলের অন্য অংশের নেতাকর্মীদের। সর্বশেষ, গত ১২ নভেম্বর রোববার রাতে জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি রেষ্টুরেন্টে যুক্তরাষ্ট্রস্থ সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নের্তৃবৃন্দ’র ব্যানারে সিদ্দিক বিরোধী একটি অনুষ্ঠানে সরাসরি তাকে চলে যাওয়ার নোটিশ দেন, জনসংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস এবং প্রচার সম্পাদক হাজি এনাম উরফে দুলাল মিয়া। এখানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলিগ বাদে দলের নিন্মস্তরের অংগ সংগঠনের প্রায় সবাই হাজির ছিলেন। সেখানে তারা জাসদ এর সভায় ছাত্রলীগ নিয়ে দেয়া ডা সিদ্দিকুর রহমানের বক্তব্যকে দল এবং বঙ্গবন্ধু বিরোধী বলে অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নেত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ড. গোলাপ সকলের সামনে ঘোষনা দিয়েছিলেন ৯০ দিনের মধ্য একটি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ও সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করতে হবে। ড. সিদ্দিক কৌশলে কার্যকরী কমিটির মিটিং বাতিল করে, নির্বাচনের পূর্বে কোন সম্মেলন হবে না বলে ঘোষনা দেন। কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে নিজেকে ক্ষমতাধর প্রমান করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে কাজী কয়েস এর কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন, চলতি বছর, আওয়ামীলিগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার সফরে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলিগের গৃহবিবাদ স্বচক্ষে দেখার সুযোগ পান। সেসময় , তার সাথে কে দেখা করতে পারবে, কে পারবে না সেই নিয়ন্ত্রন দেখানোর চেষ্টা করেন ডা সিদ্দিকুর রহমান।তাতেই ক্ষেপে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলিগকে দ্বন্দে পরিপূর্ন করে তোলার কারনে, এবং সংগঠনকে গতিশীল করতে চলমান কমিটি ভেঙে দিয়ে, নতুন সম্মেলন এর মধ্যে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেই যাচ্ছেন ডা সিদ্দিকুর রহমান। তিনি দলকে তার পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছেন, এবং তিনি গণতন্ত্র মানেন না, কারো কাছে জবাদিহিতা করেন না, দলের আয় ব্যায়ের কোন হিসাব নিকাশ দেন না।গত ৭ বছর ধরে তিনি সেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে দল চালাচ্ছেন, যেখানে অন্য আর কারো কোন ভিন্ন চিন্তার সুযোগ নেই।এই অবস্থার অবসান চাই। নেত্রীর চাওয়া অনুযায়ী আমরা এই কমিটির বিলুপ্তি চাই, সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি চাই।’

ডা সিদ্দিকুরের সাথে এসব অভ্যন্তরীন বিবাদ আর সভানেত্রীর চাওয়া অনুযায়ী সম্মেলন কবে হচ্চে সেটা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, যারা বলছে নেত্রী সম্মেলন চান তারা আসলে মিথ্যুক।

‘আমার সাথে এই কদিন আগেও প্রধানমন্ত্রীর দেখা হয়েছে, কই তিনি তো আমাকে সরে যেতে বলেন নি। কোন সম্মেলনও তো দিতে বলেন নি। খোদার পরে , শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত মানি আমি। আমার ঘাড়ে কয়টা মাথা? শেখ হাসিনা যদি বলতেন, তুমি সরে যাও, আমি কি জোর করে পড়ে থাকতাম? যারা বলছে, শেখ হাসিনা সম্মেলন দিতে বলেছেন, তারা প্রমান দেখাক। এরা দলের শত্রু, এবং দলকে আবার পঙ্গু করতে চায় এই যুক্তরাষ্ট্রে’

৯০ দিনের মধ্যে সসম্মানে আপনি পদত্যাগ না করলে, তলবী সভা ডেকে অপসারন করার প্রসঙ্গ টেনে করা এক প্রশ্নের উত্তের পাল্টা ক্ষেপে যান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট। বলেন, এই ধরনের কোন বিধানের কথা গঠনতন্ত্রে নেই।কোন নোটিশ তিনি পাননি বলেও জানান এই প্রতিবেদকের কাছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ কে সচল করার জন্য, খুব শীগ্রই সম্মেলন দেয়া হবে বলে এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী নেতাকর্মীদের আস্বস্থ করেছিলেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে দলের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপকে তিনি এ নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছিল অনলাইন পোর্টাল পূর্ব পশ্চিম বিডি। এখণ সেই অবস্থান কে ধরে, কমিটি পরিবর্তনের জন্য কার্যকরী সভা ডাকার দাবী করছেন তৃনমূলের অনেক নেতকর্মী-ই। তবে, ডাক্তার সিদ্দিকুর রহমান কর্নপাত করছেন না বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ আনছে তারই নেতৃত্বে চলা কমিটির অনেক নেতা।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি সাত বছর আগে গঠিত হয়। এরই মধ্যে এই কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে। সিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতি ও সাজ্জাদুর রহমান খানকে সাধারণ সম্পাদক করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে গত বছর সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আবদুস সামাদ আজাদ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এখন দায়িত্ব পালন করছেন।

 

Photo Credit: TBN24

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *