প্রখ্যাত ঈমাম শামশি আলীকে নিয়ে অশস্তি

বিশেষ প্রতিনিধি

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত মসজিদ এবং মসজিদ কেন্দ্র জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের একজন খন্ডকালীন ঈমাম, ইন্দোনেশিয়ার বংশোদ্ভুত শামশি আলীকে নিয়ে মুসুল্লিরা অসস্তিতে আছেন। তাকে অপসারণ করার দাবী তুলে আসছেন অনেক সাধারন মুসু্ল্লি। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসে ৪৭০ জন মুসুল্লির সাক্ষর নিয়ে মসজিদ কমিটির কাছে শামশি আলীর অপসারন দাবী করা হয় মসজিদ কমিটির সাধারন সভায়। এনিয়ে সম্প্রতি একটি মিটিং ডাকা হলেও, বিরুপ আবাহাওয়ার কারনে সেটি করা সম্ভব হয়নি। এখন আবার নতুন করে, মিটিং এ বসে একটি ফায়সালা করার চেষ্টা চলছে।

জ্যামাইকার হিলসাইডে বাংলাদেশীদের প্রাণকেন্দ্র জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার পরিচালান কমিটির সবেক কয়েকজন সদস্য, শামশি আলীকে অপসারন দাবীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যাদের মধ্যে,বদরুল ইসলাম, ডা. জুন্নুন চৌধুরী, ড. নাজিম উদ্দিন ফারুক বকত চৌধুরী ও নজরুল ইসলাম । প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সাথে আলাপকালে দাবীর পক্ষে জনমত তৈরী করা মুসুল্লিদের একজন ডা জুন্নুন চৌধুরী জানিয়েছেন, শামশি আলী তার কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে ঈমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের তাকওয়া নষ্ট করেছেন বহু আগে।তার কারণেই অনেকেই এখন এই মসজিদে নামাজে আসেন না। আমরা তার অপসারন চাই। এনিয়ে মসজিদ কমিটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের একজন, সাধারণ সম্পাদক মনজুর আহমেদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান, খুব শীঘ্রই তারা আবার বসবেন, এবং শামশি আলীর বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আছে, সেটা নিয়ে তিনি মুসুল্লিদের সামনে কৈফিয়ত দেবেন বলে-ই আমরা আশা করছি।

শামশি আলীর  বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ট্রাম্প প্রসাশনের চাওয়া অনুযায়ী নিউইয়র্কের মসজিদে মসজিদে সরকারী নজরদারীর অংশ হিসেবে কাজ করছেন। এর বড় উদাহারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তিনি, এস্টোরিয়ার মসজিদ আল হিকমা’র একজন ঈমামকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। তার বৈধতার কাজপত্র ছিল না সেকারণে, শামশি আলী বর্ডার পুলিশ দপ্তর আইসকে দিয়ে তাকে ধরিয়ে দিয়ে, ,দেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করেছিলেন। এর বাইরে, তার বিরুদ্ধে মুসলিম ডে প্যারেড এর অর্থ নিয়ে দূর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন মুসুল্লিদের একটি অংশ।

সর্বশেষ, গত ১৭ ডিসেম্বরে মসুজিদের সাধারণ সভায় কমপক্ষে ১৫জন আজীবন সদস্য সহ আরো অনেকেই শামশি আলীর অপসারণ চেয়ে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তারা জানতে চান, কেন এই ভিনদেশী ঈমামকে এখনো খন্ডকালীন ঈমাম হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রেখেছে মসজিদ কমিটি। হল ভর্তি আজীবন সদস্যদের মধ্যে কেউই শামশি আলীর পক্ষে কথা বলেননি।

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারী মনজুর আহমেদ জানিয়েছেন, মসজিদের পবিত্রতার স্বার্থেই আমরা চাইনা বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি গণমাধ্যমে আ্লোচনা হোক। ঈমাম শামশি আলীকে নিয়ে কিছুটা অসস্তির খবর আমরা পেয়েছি এবং এটা নিয়ে আমাদের অভ্যন্তরীন আলোচনাও হচ্ছে। যারা আপত্তি তুলেছেন তাদের কে নিয়ে ৪ ডিসেম্বর আমাদের বসার কথা ছিল, কিন্তু তুষারপাতের কারণে সেটা বাতিল করেছিলাম আমরা। এখন, খুব শীঘ্রই আবার তাদের কে চিঠি দেব বসার জন্য। সেখানে ঈমাম শামশি আলীকেও আমন্ত্রন জানবো, তার বিরুদ্ধে উথ্বাপিত বক্তব্যসুমুহের জবাব দেবার জন্য’

সাধারণ সভায় উপস্থিত আজীবন সদস্যরা কমিটির কাছে জানতে চান ৪৭০জন মুসল্লী যেখানে ইমাম শামশি আলীকে চান না এমন লিখিত স্বাক্ষর আবেদন জমা দেওয়ার পরও কমিটি মুখ খুলছেন না কি কারণে। সাধারণ সভায় কমিটির দায়িত্ব প্রাপ্তরা কোন সৎ উত্তর দিতে পারে নি। আজীবন সদস্যদের দাবী জুমার নামাযে মুসল্লীদের কাছে জিজ্ঞাস করলে জানতে পারবে তার পিছনে মুসল্লীরা নামায পড়তে চান কিনা। একজন ইমামের জন্য শর্ত শুধু ইংরেজীতে বক্তৃতা দেওয়া নয়, এলেম, আমল, পোশাক আশাক, চরিত্রিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে তার অপসারন দাবী করে মুসুল্লি জনমত তৈরী কারীদের একজন সাবেক সেক্রেটারী জেনারেল ডা জুন্নন চৌধুরী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ যারা ইমাম শামশে আলীর পক্ষে নিচ্ছেন এবং মনে করেন তার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে তবে তাদের উচিত শামশি আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো খন্ডন করা।ইমাম শামশি আলীকে ইতিপূর্বে ৯৬ ষ্ট্রিট মসজিদ থেকে বর্হিস্কার ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সম্প্রতি মুসলিম ডে প্যারেড এর সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। সেখানে মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে আর্থিক লেনদেনের সুরাহা হয়নি বলে জানা গেছে।শামশে আলী যে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তার দলিল প্রমাণ ওয়েব সাইড এবং ইউটিউবে রয়েছে। দুই একজন দন্তবিদ এই ইমামকে নিয়ে লাফালাফি করছেন। এই সব বিষয়ে আমাদের কমিউনিটির লোকজন জানতে চাই। আমাদের একটাই দাবী আমরা বিতর্কিত ইমাম চাই না, আমরা চাই জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার তার ঐতিহ্য ধরে রাখুক এবং একজন আমলধারী ইমাম, পরহেজগার ব্যক্তি ইমামতির নেতৃত্ব দিক’

উল্লেখ্য, ঈমাম শামশি আলী নিউইয়র্ক নয় শুধু, গোটা যুক্তরাষ্ট্র জুড়েই তার উদার ইসলামিক জ্ঞান আর বক্তৃতার জন্য বেশ বিখ্যাত। নিউইয়র্কের নগর প্রসাশন এবং সরকারী অনন্য সংস্থার সাথে তার বিস্তর যোগাযোগ আছে। উদার মুসলিমরা তার ভক্ত হলেও, কট্টর ইসলামী অনুশাসনের অনুসারীরা তাকে পছন্দ করেন না। এস্টোরিয়ার যে মসজিদ তাকে বেড়ে উঠার সুযোগ দিয়েছিল, সেই মসজিদ থেকেই তাকে বিতাড়িত করা হয় ২০১১ সালে। এ নিয়ে বিবিসিতে প্রতিবেদন হয়েছিল। বিস্তর ইসলামী জ্ঞান আর যুক্তি তর্কে পারদর্শীতার কারণে তিনি অনেকের পছন্দের হলেও, দিনে দিনে তার বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ দলটিও বেশ ভারী।সর্বশেষ, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে তিনি মাসের একটি শুক্রবার নামাজ পড়ান, যারজন্য তাকে ১৬০০ ডলার প্রদান করা হয়। এই টাকাটি অপচয় বলেই মনে করছেন, তার অপসারণ দাবী কারীরা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *