এমনতিকেই যে বরফ জমা ঠান্ডা পড়েছে, পুরো উত্তর আমেরিকার উত্তর-পর্বান্চলীয় রাজ্যগুলিতে তাতে কিছুটা ঘরকুনো সময় পার করেছেন প্রায় সকল আমেরিকান। তবে, তাদের মধ্যে যাদের ঘরের বাইরে বেরে হওয়ার প্রয়োজন ছিল, তাদের প্রায় সবাই বের হয়েছেন।কেবল, যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছাড়া। ৫ জানুয়ারীর বরফে ঢাকা পড়েছে, এখানকার বিএনপি রাজনীতির দৈনদশা। এদিন ঘটা করে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লিগ গণতন্ত্র উৎসব পালন করেছে।তবে, গনতন্ত্র হত্যা করেছে দাবী করে যারা রাজনীতি করেন, সেই বিএনপির বলা চলে তেমন কোন নেতাকর্মী বের-ই হননি। এক কর্মী আক্ষেপ করেই জানিয়েছেন, আসলে দারুন শীতে কাবু হয়েছে এখানকার বিএনপি।এই শীত আর যাবে বলে মনে হয়না-এমন আক্ষেপও ছিল তার কন্ঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিএনপির কোন পূর্নাঙ্গ কমিটি নেই অনেক বছর হলো। সেই সুবাদে, যেই যেভাবে চাইছেন, নিজেকে দলের অন্যতম কর্নধার তারেক রহমানের আস্থাভাজন দাবী করে, নিজের নামেই একটি কমিটি বানানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি, কমিটি নেই বলে, কোন কোন বিএনপির কমী, নিজের নামেই বিএনপির নাম পরিচয় নিবন্ধন করে, আইনী নোটিশ পাঠিয়ে এর মালিকানা দাবী করছেন।এমন চরম অরাজক পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে-এক দিনে তৈরী হয়নি। গেল ২/৩ বছর ধরেই, যুক্তরাষ্ট্রের বিএনপির কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, মাঠে তার ফল দেখা গেছে বালুকনা পরিমান।অথচ, যুক্তরাষ্ট্রেরই বিএনপির সুবিধাভোগী-উচ্ছিষ্টভোগী রাজনীতিক ব্যবসায়ীদের সংখ্যা নেহায়েত-ই কম নয়।
প্রবাসে বিএনপির রাজনীতির কর্মী সমর্থক , সাবেক মন্ত্রী আমলা, এমনকি সাংবাদিকরাও একত্রিত হয়েও, ৫ জানুয়ারীর এক তরফা নির্বাচনের প্রতিবাদ সমাবেশ করতে পারেননি। অথচ এই শহরেই আছেন, সাবেক ঢাকার মেয়র, এবং বিএনপি ঢাকা মহানগরীর সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা। আছেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রবাসে বিএনপির সংগঠক এহসানুল হক মিলন। সাবেক একজন বিএনপির টিকেটে নির্বাচন করা এমপি এম এম শাহীন আছেন। কিছু দুরত্বে, ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাস করেন, সাবেক সরকারের সহকারী প্রেস সেক্রেটারী মুশফিক ফজল আনসারী। আছেন, কন্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। জামায়ত সমর্থক বিএনপি পক্ষে কলমধারী আইনজীবি তুহিন মালিক এর বাইরে, বিএনপির রাজনীতির সমর্থক সাংবাদিক আবু নাসের সহ অনেকেই বাস করেন এই শহরে। তারা একত্রিত হয়েও কোন বিবৃতি বা একটি নিন্দা প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা দেখানি। সবাই বশে আছেন, সাধারন কমীরা মাঠ গরম করবেন, সেটা সেখবেন বলে।

এই স্থবিরতার কারন, কেন্দ্র থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিএনপি প্লাটফর্মটিকে দ্বিধাবিভক্ত রাখা। এহসানুল হক মিলনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বিএনপি পূবগর্ঠনে, কিন্তু তাকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মানতে চাননি। ঢাকার কেন্দ্রীয় অফিসও এখানে কোন হস্তক্ষেপ করেনি, এমনকি পর্দার ওপাশে থেকেও একটি সক্রিয় কমিটি করার বিষয়ে কেউ কোন উদ্যোগ নেননি।
উপায় না দেখে, যুক্তরাষ্ট্র সফররত সাবেক এমপি ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ এবং সাবেক এমপি ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়ার সাথে দেখা করে, পূনাঙ্গ কমিটি’র দাবী তুলেন, সাবেক কিছু সক্রিয় নেতারা।
সেখানে তারা বলেন, আমরা জিয়াউর রহমানকে তার আদর্শকে ভালোবেসে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি’র রাজনীতি করি। আমরা কাউকে ট্যাক্স দিয়ে রাজনীতি করতে চাই না বা নেতা হতে চাই না। আমরা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র পূর্নাঙ্গ কমিটি চাই, কমিটিতে দলের জন্য ত্যাগী ও যোগ্য নেতা-কর্মীদৈর স্থান চাই।
বাংলাদেশী-আমেরিকান জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউএসএ’র নামে এই মতবিনিময় সভায় প্রবাসী নেতৃবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন সময়ের দাবী উল্লেখ করে এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতা হারুনুর রশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিষয়টি যথাস্থানে জানাবেন বলে জানান। নিউইয়র্কের উডসাইড এলাকার কুইন্স বুলেভার্ডস্থ একটি রেষ্টুরেন্টে গত ২৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই সভার আয়োজন করা হয়।
আশির দশকের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের সংগঠন বাংলাদেশী-আমেরিকান জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি নিয়াজ আহমেদ জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ও কেন্দ্রীয় জাসাস নেত্রী রিজিয়া পারভীন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ এবং সাবেক সহ সভাপতি ও ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সামসুল ইসলাম মজনু এবং বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এখানে উপস্থিত ছিলেন।

-বাংলা ইনফোটিউব

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *