বিশ্ব

বৈরুতে বিস্ফোরণ থামিয়ে দিলো রফিক হারিরি হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় 1 min read

আগস্ট ৮, ২০২০ 5 min read

author:

বৈরুতে বিস্ফোরণ থামিয়ে দিলো রফিক হারিরি হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় 1 min read

Reading Time: 5 minutes

তায়েফ চুক্তির মাধ্যমে ১৫ বছর ধরে চলা লেবানন গৃহযুদ্ধের ইতি ঘটিয়েছিলেন রফিক হারিরি। ওই একটি চুক্তিই তাকে এনে দেয় লেবাননের সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি অবস্থানে। এর জন্য বলতে গেলে এককভাবে লড়ে গিয়েছিলেন তিনি। গৃহযুদ্ধের পর রাজধানী বৈরুত পুনর্গঠন করেন নিজের সন্তানের মতো করে। ব্যাপক জনপ্রিয়তা আর কর্মগুণে নির্বাচিত হন গৃহযুদ্ধ পরবর্তী প্রথম প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তাকে বাঁচতে দেয়া হয়নি। কারো মতে, শিয়াপন্থী হামলায়, কারো মতে সিরিয়ার ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছিলেন তিনি!

২০০৫ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি বৈরুতেই আত্মঘাতী ট্রাক বোমা হামলায় প্রাণ হারান লেবাননের এই কিংবদন্তি নেতা। দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই সপ্তাহেই সেই মামলার রায় হবার কথা ছিল। কিন্তু রাজধানী বৈরুতে আরেকটি বিস্ফোরণের কারণে থেমে গিয়েছে লেবানিজ জনগণের সব কিছু। কাকতালীয় হলেও সত্য, দুটো বিস্ফোরণ প্রায় একই রকম। রফিক হারিরি মারা যান ১০০০ লিটার টিএনটি (ট্রাই নাইট্রো টলুইন) এর বিস্ফোরণের কারণে। আর সব শেষটি ঘটে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের কারণে।

রফিক হারিরির পরিচয়

রফিক হারিরির জন্ম ১৯৪৪ সালের ১লা নভেম্বরে। তিনি একজন সুন্নি মুসলিম। লেবাননের বন্দরনগরী সিডনেই জন্ম আর বেড়ে ওঠা। ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন ব্যবসায়ী। বৈরুত আরব ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় প্রশাসনের গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে তিনি আর দশজন সাধারণ লেবানিজের মতই জীবনের তাগিদে নেমে পড়েন রাস্তায়। ১৯৬৫ সালে প্রথমবারের মত সৌদি আরবে যান। সেখান থেকে মোড় ঘুরে তার জীবনে। সৌদির সাথে তার এবং পরবর্তীতে তার সন্তান সাদ আল হারিরির সম্পর্ক সবই শুরু ১৯৬৫ সালের দিনগুলো থেকে। সৌদি আরবে তিনি প্রথম যুক্ত হন শিক্ষকতায়। এরপর নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে। ১৯৭৮ সালে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পেয়ে যান রফিক হারিরি।

প্রবাস জীবন এবং লেবাননে সম্পৃক্ততা

নাগরিকত্ব পেয়ে সৌদির বিভিন্ন রকম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে থাকেন রফিক হারিরি। এক পর্যায়ে সৌদি আরবের তায়েফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি হোটেল নির্মাণ করার সুবাদে বাদশা খালেদের একেবারে সুনজরে চলে আসেন তিনি। একই সাথে ঘুরতে শুরু করে তার ভাগ্যের চাকা। কয়েক বছরের মধ্যে মাল্টি-বিলিয়নিয়ারে পরিণত হন। বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জনের পর হারিরি নজর দেন মাতৃভূমি লেবাননের দিকে। নানা রকম জনহিতৈষী কাজে যুক্ত হন তিনি।

১৯৮০র দশকের শুরুতে লেবাননে ফিরে আসেন তিনি। বিপুল পরিমাণ অর্থ দানের মাধ্যমে নিজের এবং তার কোম্পানির নামকে লেবাননের ঘরে ঘরে পৌছে দিতে পেরেছিলেন তিনি। ১৯৮৩ সালে তিনি প্রিন্স বন্দর বিন সুলতানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পিএলও সরকার পতনের পর সৌদি আরবের কাছে রফিক হারিরিই ছিলেন লেবাননের বড় পরিচয়।

১৯৮২ সালে দক্ষিণ লেবাননে চার বছর আগের সহিংসতায় আহতদের পূনর্বাসনে হারিরি দান করেন ১ কোটি ২০ লাখ ডলার। একই সঙ্গে তার কোম্পানি যুক্ত হয় বৈরুতের সড়ক ব্যবস্থা সংস্কারের কাজে। কিন্তু তার সাবেক ডেপুটি নাজাহ ওয়াকিম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তিনি বৈরুতকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন, যাতে বৈরুতকে তিনি নিজেই আবার পুনর্গঠন করতে পারেন। যদিও নাজাহ ওয়াকিমের বিরুদ্ধেই গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের সাহায্য করার অভিযোগ ছিল। গৃহযুদ্ধের পর রফিক হারিরি লেবাননে সৌদি আরবের রাজপরিবারের দূত হিসেবে কাজ করেন। এবং তখন থেকেই নিজের দেশের বিবাদমান পক্ষগুলোকে এক ছাদের নিচে আনার জন্য কাজ শুরু করেন তিনি। ফলাফল পেতে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয় তাকে। তবে অপেক্ষার ফল সত্যিই মিষ্টি ছিল রফিক হারিরির জন্য। ১৯৮৯ সালে তায়েফ এগ্রিমেন্টের মধ্য দিয়ে গৃহযুদ্ধের বিবাদমান সব পক্ষ এক হয়। শেষ হয় দীর্ঘ ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধ। সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে লেবাননের নায়ক হয়ে ওঠেন রফিক হারিরি।

ক্ষমতার মঞ্চে

১৯৯২ সালে লেবাননে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন রফিক হারিরি। সেসময় প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইলিয়াস রাবি। ব্যক্তি জীবনে সফল ব্যবসায়ী হারিরি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এসেও প্রথমেই হাত দেন অর্থনীতি খাতে। একের পর এক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতি চাঙা করার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি। প্রথম দফায় তার প্রধানমন্ত্রিত্ব স্থায়ী হয় ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত। এসময়েই নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইমিলি লাহুদের সঙ্গে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় রফিক হারিরির। এ জন্য তাকে দায়িত্ব ছাড়তে হয়। তার জায়গায় প্রধানমন্ত্রী হন সেলিম হোস। ২০০০ সালের অক্টোবরে হারিরি আবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে রফিক হারিরি পক্ষ নেন ইউএন সিকিউরিটি কাউন্সিল রেজ্যুলেশন ১৫৫৯-এর। এতে লেবাননে অবস্থানরত সব বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। ২০০৪ সালের ২০শে অক্টোবর রফিক হারিরির দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হয়।

তবে রফিক হারিরি সবসময়ই নায়কের মতো ছিলেন না। সিরিয়ার দখলদারিত্বের সময় লেবাননকে আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরেছিল দুর্নীতি। আর এইজন্য সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ছিল রফিক হারিরিকে ঘিরেই। খুব ছোট্ট একটা উদাহরণ দেয়া যাক। ১৯৯২ সালে তিনি যখন প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তখন তার সম্পদ ছিল ১০০ কোটি ডলারেরও কম। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার সময় সেই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬০০ কোটি ডলার। তিনি হয়ে উঠেন বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ ধনী রাজনীতিবিদ। ক্রমবর্ধনাম সমালোচনা ও হারিরির নীতির বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকলে ১৯৯৪ সালে অনেকটা একনায়কের মতো করেই তার বিরুদ্ধে সভা সমাবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।

নাটকীয় এক মৃত্যু

২০০৫ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি এক নাটকীয় ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন রফিক হারিরি। বৈরুতের সেইন্ট জর্জ হোটেলের কাছ দিয়ে তার গাড়িবহর যাওয়ার সময় পার্ক করে রাখা একটি মিৎসুবিশি ভ্যান থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে রাখা ছিল প্রায় ১৮০০ কিলোগ্রাম টিএনটি (ট্রাই নাইট্রো টলুইন)। এই বিস্ফোরণে প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি সহ কমপক্ষে ২৩ জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তার দেহরক্ষী, ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু এবং সেই সময়ের অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী বাসেল ফ্লোহান।

২০০৬ সালে এ নিয়ে সের্গে ব্রামারটজের এক তদন্তে দেখা যায়, ঘটনাস্থল থেকে যেসব ডিএনএ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে তার ফলাফল অনুযায়ী হামলাকারী একজন যুবক। ২০১৪ সালে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা নিয়ে দুটি রিপোর্ট দেয় জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেশন কমিশন। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যার সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে সিরিয়া সরকারের। প্রায় একই সুরে বলেছেন হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে রফিক হারিরি হত্যা মামলার দায়িত্বে থাকা আইনজীবীরাও। এসব আইনজীবীর মাঝে অনেকেই বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ থাকার প্রমাণ আছে।

এদিকে কানাডা ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিসি এক রিপোর্টে ২০০৭ সালে দাবী করেছিল, রফিক হারিরি হত্যায় হিজবুল্লাহ দায়ী এমন তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের বিশেষ তদন্তকারী দল। জাতিসংঘ সমর্থিত অন্য একটি ট্রাইব্যুনাল হিজবুল্লাহর চারজন সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে এ হামলার জন্য হিজবুল্লাহ দায়ী করে ইসরাইলকে। জাতিসংঘ সমর্থিত সেই ট্রাইব্যুনাল থেকে অভিযুক্ত করা হয় হিজবুল্লাহ সমর্থক সেলিম জামিল আয়াশ, হাসান হাবিব মেরহি, হুসেইন হাসান ওনেসিস এবং আসাদ হাসান সাব্রাকে। তবে এদের সবাই পলাতক। বর্তমানে তাদের অনুপস্থিতিতে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ফর লেবাননে তাদের বিচার চলছে। যার রায় হবার কথা ছিল ৮ আগস্ট। কিন্তু রায় ঘোষণার আগেই আরেকটি রাসায়নিক বিস্ফোরণ ঘটে যাওয়াতে থেমে গিয়েছে পুরো লেবাননের জীবন। নানা বিতর্কের মাঝে তদন্তে এখন অনেকেই খুঁজতে চাইছেন এই মামলার রায় ঘিরে নানা ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা।

ষড়যন্ত্র কি ঘরেই ছিল?

হারিরি হত্যা মামলার জার্মান প্রসিকিউটর ডেটলেভ মেহলিসের অনুরোধে ২০০৫ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয় তৎকালীন লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটির প্রধান মেজর জেনারেল জামিল আল সাঈদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুস্তাফা হামদান, মেজর জেনারেল আলি হাজ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেমন্ড আজারকে। মেহলিসের দেয়া রিপোর্ট গণমাধ্যমে ফাঁস হলে দেখা যায়, রফিক হারিরিকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জামিল আল সাঈদ। তার সঙ্গে সিরিয়ার উচ্চ পদস্থ গোয়েন্দা, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের যোগ দেয়ার বিভিন্ন প্রমাণও হাজির করেছিলেন মেহলিস। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন আসেফ শওকত, মাহের আসাদ, হাসান খলিল এবং বাহজাত সুলেইমান। এই চার জেনারেলকে ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বৈরুতের উত্তর-পূর্বে রুমেই কারাগারে আটক রাখা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকায় তাদেরকে জেল থেকে ছেড়ে দেয়া হয় ২০০৯ সালে। এই হত্যাকাণ্ডে হিজবুল্লাহর চার সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১১ সালে।

লেবানিজ পুলিশ এবং জাতিসংঘের পরবর্তী বিভিন্ন তদন্তেও হিজবুল্লাহর সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসতে শুরু করে। তদন্তে আরো উঠে আসে সিরিয়া এবং ইরানের নাম। কানাডাভিত্তিক সংবাদ প্রতিষ্ঠান সিবিসি এই ব্যাপারে সমস্ত টেলিকমিউনিকেশন প্রমাণাদি যোগাড় করেছিলো। জাতিসংঘ অবশ্য হারিরির নিজস্ব চিফ অফ প্রটোকলকেও সন্দেহ করেছিল। যিনি লেবানিজ ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের প্রধান হলেও শিয়াপন্থী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ভাল যোগাযোগ রাখতেন বলে জানা যায়। কিন্তু রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক কারণে সেসব অভ্যন্তরীণ তথ্য জাতিসংঘ কখনোই প্রকাশ করেনি।

অভিযুক্তদের পরিচয় ও পরিণতি

মূল হোতা এবং হিজবুল্লাহ কমান্ডার মুস্তাফা বদরুদ্দিন ২০১৬ সালে সিরিয়ার দামেস্কে মিলিশিয়া অপারেশনে সাহায্য করার সময় নিহত হন বলে প্রমাণ আছে। দ্য স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ফর লেবানন সেবছর জুলাই মাসে অবশ্য পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় তাকে মৃত এর পরিবর্তে অনুপস্থিত দেখিয়ে বিচারকার্য চালিয়ে নেয়। লেবাননে ইসরাইলী আগ্রাসনের সময় ১৯৮২ সালে হিজবুল্লাহতে যোগদান করেন মুস্তাফা বদরুদ্দিন। ১৯৮৩ সালে ফ্রান্স এবং মার্কিন দূতাবাসে হামলার অভিযোগে কুয়েতে কারাবরণ করেন তিনি। ১৯৯০ সালে ইরাক কর্তৃক কুয়েত আক্রমণের সময় দুটি বিমান হাইজ্যাক করে শিয়া মিলিশিয়া দল। সেই সময় মুক্তিপণের শর্ত হিসেবে জেল থেকে ছাড়া পান মুস্তাফা বদরুদ্দিন।

হামলার দলনেতা ছিলেন সেলিম জামিল আয়াশ। বাকি তিনজনের মত তার অবস্থানও এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত। এখন পর্যন্ত ২১ হত্যা এবং ২২৬ হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করেছে দ্য স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ফর লেবানন। ২০১৯ সালে তাকে নতুন করে ২০০৪ ও ২০০৫ সালে লেবাননে রাজনৈতিক হামলার জন্য আলাদা একটি মামলায় দায়ী করা হয়।

হুসেইন ওনেইসি এবং আসাদ সাব্রা দুজনেই আল-জাজিরা নিউজ চ্যানেলে অন্য একটি দলের উপর দায় চাপিয়ে সেসময় ভিডিও প্রেরণ করেছিলেন। বিচার কাজে তাদের দুজনকেও সেলিম জামিল আয়াশের মতই একই অভিযোগে রাখা হয়। ২০১৮ সালে পর্যাপ্ত প্রমাণ সাপেক্ষে ট্রাইব্যুনাল দাবী করে বিস্ফোরণের পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত ওনেইসি এবং সাব্রা মুঠোফোনে হারিরির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এছাড়া হাসান মেহরি নামের আরেক হিজবুল্লাহ নেতাকেও এই দুজনের সাথে অভিযুক্ত করা হয়। তবে ট্রাইব্যুনাল যেখানে এর সবকিছুকেই বলছে তত্ত্বীয়ভাবে, সেখানে হত্যাকান্ডের ১৫ বছর পরে এসেও অভিযুক্তদের দাবী ছিল এর সবকিছুই প্রমাণ বিহীন।

লেখক- জুবায়ের আহম্মেদ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *