ইরানের বিখ্যাত কয়েকটি দর্শনীয় স্থান1 min read
Reading Time: 4 minutesপৃথিবীর অন্যতম সুন্দর, আকর্ষণীয়, মনমুগ্ধকর, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও দর্শনীয় স্থানে পরিপূর্ণ একটি দেশের নাম ইরান। ফলে ভ্রমণপিপাসু, পর্যটক ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে ইরানের বেশ কিছু শহর অনন্য স্থান দখল করে নিয়েছে। ইরানের দর্শনীয় স্থানের শীর্ষে থাকা এমনই কিছু শহর সম্পর্কে আমরা এই লেখাটি থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো।
সিরাজ
ইরানের এথেন্স হিসেবে খ্যাত অত্যন্ত সুন্দর, মনোরম, ঐতিহাসিক ও জনবহুল একটি শহর হচ্ছে সিরাজ। পর্যটনের নগরী হিসেবেও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে শিরাজ শহরটি অতুলনীয়। দাস্তে আরযান, ভালকী মসজিদ, বিখ্যাত মনুমেন্ট “সাইরাস দ্য গ্রেট“, এরাম গার্ডেন, নাসিরুল–মুলক মসজিদ ইত্যাদি চমকপ্রদ সব স্থাপনা রয়েছে এই শহরে। এছাড়াও মহাকবি হাফিজ ও জগৎবিখ্যাত শেখ সাদীর কবর দেখতে আপনাকে ছুটে যেতে হবে এই সিরাজ শহরে।
কাশান

চমকপ্রদ ও নয়াভিরাম বিভিন্ন স্থান ও স্থাপনায় ভরপুর ইরানের অন্যতম দর্শনীয় স্থান কাশান শহর, যা ইসফাহান প্রদেশে অবস্থিত। এই শহরের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মারানযাব ও দাসতে কাবীরের মতো মরুভূমি, যেখানে হেঁটে হেঁটে আপনি খুব সহজেই সূর্য উদয় দেখতে পারবেন। ইরানের বিখ্যাত ফিন গার্ডেন বা বাগে ফিন এই কাশান শহরেই অবস্থিত। এরপর রয়েছে লবণাক্ত পানির হ্রদসমূহ, বিশেষ করে চাশমে সোলায়মান বা সোলায়মানের হ্রদ, যা প্রায় সাত হাজার বছরের পুরাতন। কাশানের গোলাপ, গোলাপ পানি ও গোলাপ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার সব ধরনের মানুষের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। গোলাপকে কেন্দ্র করে কাশানে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে গোলাপ উৎসব। আর এই উৎসবে যোগ দিতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা।
ইসফাহান

সুন্দরের লীলাভূমি ইরানের ইসফাহান শহরটি, যা ইস্পাহান নামেও পরিচিত। এটি শুধু ইরানেরই নয় বরং পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর ও দর্শনীয় একটি শহর। ফরাসি লেখক ও পরিব্রাজক অঁদ্রে মালরো বলেছিলেন “কে দাবি করতে পারে সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শহর দেখেছে, যে এখনো ইস্পাহানে যায়নি।” তিনি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর তিনটি শহরের একটি বলে এটিকে আখ্যায়িত করেছিলেন। এই শহরটিতে বিভিন্ন স্থাপনা, দর্শনীয় স্থান, ছাদে ঢাকা সেতু, মসজিদ ও মিনার রয়েছে। ইসফাহান শহরকে ঘিরে ইরানের একটি বিখ্যাত প্রবাদ প্রচলিত আছে, তাহলো “ইসপাহান নেসফে জাহান আসত” যার অর্থ ইস্পাহান পৃথিবীর অর্ধেক। শেখ লুৎফুল্লাহ মসজিদের গম্বুজের কারুকার্য, ৪০ স্তম্বের প্রসাদ চেহেল সুতুন, ৮ স্বর্গের প্রসাদ হাশত বেহেশত, রাজকীয় প্রসাদ আলী কাপু, শাহরেস্তান সেতু, খাজু সেতু, পিজিয়ন হাউস, বিখ্যাত মিনার মানার জমবান, ইত্যাদি অসাধারণ সব স্থাপনা ও চমকপ্রদ সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই যেতে হবে ইরানের ইস্পাহান শহরে।
আবিয়ানেহ

আবিয়ানেহ অত্যন্ত ছোট্ট একটি গ্রাম, যা ইরানের ইসফাহান প্রদেশের ইসফাহান ও কাশান শহরের মাঝামাঝিতে অবস্থিত। মাত্র ৩০০ লোক এই গ্রামে বাস করলেও এই গ্রামটি ইরানসহ বিশ্বের অনেক দেশের মানুষের কাছেই সুপরিচিত। কারণ এই গ্রামের মানুষেরা প্রায় ২ হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এখনো ধরে রেখেছে। আর তার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৭ সালে এই গ্রাম তার নামটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এখানে বাড়ি–ঘরগুলো তৈরি করা হয়েছে লাল–বাদামী রঙের মাটি দিয়ে, যা দেখলে যেকোনো মানুষের চোখ জুড়িয়ে যাবে।
লুট মরুভূমি

আপনি যদি পৃথিবীতে অবস্থান করেই মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেতে চান, তবে ঘুরে আসুন ইরানের লুট মরুভূমিতে। এই মরুভূমিতে বালির অনেক দূর্গ দেখতে পাবেন, যা মূলত কালুটস নামে পরিচিত। আর এই কারণে এর নাম দাশত-ই-লুট, যা কালুট নামেও সুপরিচিত। এই মরুভূমিতে মাত্রারিক্ত তাপমাত্রা হওয়ার কারণে এটিকে “গ্যানডম বেরিয়ান বা ভাজা শস্য “ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। এখানে ২০০৫ সালে নাসা ৭০.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা মেপেছিল; তাহলে বুঝতেই পারছেন এখানে কেমন গরম অনুভূত হতে পারে! এটি একদিকে যেমন পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণতম স্থান তেমনি এটি ইরানের সবচেয়ে নিম্নভূমি। এখানে দেখতে পাবেন বেশকিছু সারিবদ্ধ ক্ষয়প্রাপ্ত টাওয়ার ও দেয়াল; মরুভূমির মাঝে এমন স্তম্ভগুলো আপনাকে আরো অনেক বেশি রোমাঞ্চিত করে তুলবে।
ইয়াজদ

ইরানের কেন্দ্রীয় শহর ইয়াজদ হচ্ছে বহু অত্যাশ্চর্য ঐতিহাসিক মসজিদ আর প্রাচীন জরথুস্ত্র অগ্নি মন্দিরের আবাসস্থল। ইরানের সবচেয়ে বড় দুই মরুভূমির মাঝে অবস্থিত এই ইয়াজদ শহরে আপনি গেলেই দেখতে পাবেন প্রাচীনকালের বিভিন্ন ঘরবাড়ি ও শিল্পকলার নানা নিদর্শন। শিক্ষা-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও শিল্পকলা চর্চার কারণে এই শহরটি আধুনিক শিল্পকলার রাজধানী হিসেবে সুপরিচিত। আবার ২০১৯ সালে এই শহরটি “বুক ক্যাপিটাল বা বইয়ের রাজধানী “ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ফলের শিক্ষা-সংস্কৃতি শিল্পমনস্ক ও ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে ইরানের শহরটি হয়ে উঠেছে অন্যতম দর্শনীয় স্থান।