বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

স্টিভ জবস: প্রযুক্তি যার কাছে ছিল শিল্প1 min read

সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০ 6 min read

author:

স্টিভ জবস: প্রযুক্তি যার কাছে ছিল শিল্প1 min read

Reading Time: 6 minutes

পৃথিবীর সব টেক জায়ান্টগুলোর মধ্যে অ্যাপল অন্যতম। আইফোন, আইপ্যাড, আইম্যাক, আইপড- এমন বিশ্ব মানের সব প্রযুক্তিপণ্য অন্য সবার থেকে তাদের আলাদা করেছে। প্রচার-প্রচারণা কিংবা পণ্যের মানের জন্যই কিনা অ্যাপল মানেই যেন অভিজাত কিছু। মূলত আইফোনের কারণেই অ্যাপল বর্তমানে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। কিন্তু এই কোম্পানির শুরুটা হয়েছিল পারসোনাল কম্পিউটার তৈরির মাধ্যমে। অ্যাপলের অবিশ্বাস্য উত্থানের ইতিহাসের সাথে আরেকটি নাম সমার্থক হয়ে আছে। স্টিভ পল জবস। কিংবদন্তী এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবককে পারসোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ বলা হয়।

১৯৫৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে জন্মগ্রহণ করেন স্টিভ জবস। ইউনিভার্সিটি অব উইনকিনসন গ্রাজুয়েট আব্দুল ফাত্তাহ জন জান্দালি ও জোয়ান ক্যারলের প্রথম সন্তান ছিলেন জবস। জবসের জন্মের সময়টায় তাঁর মা-বাবা দুজনেই ছিলেন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। এবং তারা তখন অব্দি বিবাহিত ছিলেন না। তাই তারা তাঁদের নামবিহীন সন্তানকে  দত্তক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পল ও ক্লারা জবস নামের এক নিঃসন্তান দম্পতি স্টিভ জবসকে দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেন। স্টিভেন পল জবস নামটি তাদেরই দেওয়া।

১৯৭২ সালে হাইস্কুলের গণ্ডি পেড়িয়ে জবস ভর্তি হন রীড কলেজে। কিন্তু রীড কলেজ লিবারেল আর্টসের জন্য বেশ ব্যয়বহুল ছিল। অস্বচ্ছল পল-ক্লারা দম্পতির পক্ষে সেই ব্যয়ভার বহন করা কষ্টকর ছিল। ব্যাপারটি বুঝতে পেরে নিজে থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে বিদায় জানান তিনি। যদিও কিছুটা বিরতির পর তিনি আবার ক্যালিগ্রাফি সহ আরো কিছু ক্লাসে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি ছিল কেবলই সাময়িক সময়ের জন্য। ক্যালিগ্রাফি ক্লাস পরবর্তীতে জবসকে কম্পিটার ডিজাইনে সাহায্য করেছিল।

স্টিভ জবস অর্থ-বৈভবের ব্যাপারে বরাবরই ছিলেন উদাসীন। দীনতা কিংবা বিশাল বৈভব কোনটাই তাকে স্পর্শ করতো না। কলেজে থাকাকালীন জবসের একটি উক্তি বেশ প্রচলিত আছে- “আমার কোনো রুম ছিল না। বন্ধুদের রুমের ফ্লোরে আমি ঘুমাতাম। মানুষের ব্যবহৃত কোকের বোতল ফেরত দিয়ে আমি পাঁচ সেন্ট করে রোজগার করতাম, যেটা দিয়ে আমি খাবার কিনতাম। প্রতি রোববার রাতে আমি সাত মেইল হেঁটে হরেকৃষ্ণ মন্দিরে যেতাম শুধু একবেলা ভালো খাওয়ার জন্য।”

কিন্তু এই উক্তি জবসের ব্যক্তিত্বের সাথে প্রচন্ড রকম সাংঘর্ষিক। টাকা না থাকা অবস্থায়ও জবস ছিলেন প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী, একরোখা ও বদ মেজাজের।

তরুণ জবস ও ওজনিয়াক; Photo: businessinsider.com

১৯৭০ সালে এক বন্ধুর মাধ্যমে স্টিভ ওজনিয়াকের সাথে পরিচয় হয় জবসের। বয়সে ৪ বছরের পার্থক্য থাকলেও তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হতে এক মূহুর্তও দেরি হয় নি। ইলেক্ট্রনিক্সের প্রতি ভালোবাসা দুজনকে এক কাতারে নিয়ে আসে। এ সময় জবস নিয়মিত ওজনিয়াকের সাথে হোমব্রিউ কম্পিউটার ক্লাবের সভাগুলোতে উপস্থিত থাকতেন। ১৯৭২ সালে দুই বন্ধু মিলে প্রথমে যে জিনিসটি তৈরি করেন তা হল একটি ব্লু বক্স। এই যন্ত্রের সাহায্যে টেলিফোনকে বোকা বানিয়ে বিনামূল্যে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে কথা বলা যেত। এটা যদিও আইন বিরুদ্ধ ছিল। কিন্তু লোকজনের কাছে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা। এই যন্ত্র বিক্রি করে তাঁরা প্রায় ৬ হাজার ডলারের মতো ইনকামও  করেছিলেন।

১৯৯৪ সালের এক সাক্ষাৎকারে জবস বলেন যে, ব্লু বক্স কিভাবে তৈরি করতে হয় তা বুঝে উঠতে তাদের ছয় মাস সময় লেগেছিল। যদি ব্লু বক্স তৈরি না হত তাহলে হয়ত অ্যাপল ও থাকত না ।

১৯৭৪ সালে জবস অ্যাটারি নামক গেম নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু কোন এক অদ্ভুত কারণে জবস সব কিছু ছেড়ে ভারত ভ্রমণে বেড়িয়ে পড়েন। দিল্লী, উত্তর প্রদেশ, হিমাচল প্রদেশে প্রায় সাত মাস অবস্থানের পর তিনি ভারত ছেড়ে স্বদেশে ফেরেন। এ সময় তিনি ভারতীয় কায়দায় পোষাক পড়া থেকে শুরু করে উপবাস থাকার অভ্যাস রপ্ত করেন এবং বৌদ্ধধর্মের অনুসারি হয়ে ওঠেন।

১৯৭৬ সাল থেকে বিদ্যুৎ বেগে জবসের উত্থান শুরু হয়। এই বছর ওজনিয়াক ও রোনাল্ড ওয়েন নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “অ্যাপল কম্পিউটার”। প্রথমদিকে সার্কিট বোর্ড বিক্রয়ের মাধ্যমে তারা ব্যবসা শুরু করেন। সে বছরেই ওজনিয়াক একক প্রচেষ্টায় “অ্যাপল-১” কম্পিউটারটি উদ্ভাবন করেন। এবং জবসকে দেখানোর পর জবস তা বিক্রয়ের পরামর্শ দেন। এটি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যেই জবসের সেই বিখ্যাত গ্যারেজে অ্যাপল কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করা হয়। জবসের মার্কেটিং প্রতিভায় ৬৬৬.৬৬ ডলারে “অ্যাপল-১” কম্পিউটার বিক্রয় শুরু হয়। এই অদ্ভুত দামের পেছনে একটা ছিল জবস ও ওজনিয়াক সংখ্যা পুনরাবৃত্তি পছন্দ করতেন ,আর ৫০০ বা ৬৬৭ অপেক্ষা ৬৬৬.৬৬ টাইপ করা সহজ।

জবস শুরু থেকেই ছিলেন আদম্য ও প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী; Photo: businessinsider.com

অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াক বেশি পরিচিত হলেও শুরুর দিকে কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা ছিল তিনজন। তৃতীয়জন ছিলেন রোনাল্ড ওয়েন। যিনি এপলের প্রথম লোগো টি এঁকেছিলেন । কিন্তু ঋণের দায়ে ওয়েন তার ১০% শেয়ার মাত্র ৮০০ ডলারে বিক্রি করে দেন। যার বর্তমান মূল্য ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি!

ওয়েন চলে যাবার পর জবসের উৎসাহে ওজনিয়াক কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ তৈরি ও এসম্বলিংয়ে মন দিলেন। ১৯৭৭ সালে “অ্যাপল -১”- এর চাইতে উন্নত মানের একটি কম্পিউটার তৈরি করে ফেলেন তাঁরা। নাম দেওয়া হয় “অ্যাপল-২” । দুই বন্ধু আঁচ করতে পেরেছিলেন বাজারের যেকোনো কম্পিউটারের চাইতে গুণে মানে “অ্যাপল-২” সেরা। তাই এটিকে তারা কীভাবে আরও মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় সে ব্যাপারে ভাবতে শুরু করেন। কিন্তু তা করার জন্য দরকার ছিল মূলধন। তাই তারা ইন্টেলের সাবেক পণ্য বিপণন ব্যবস্থাপক মাইক মার্ককুলা এর কাছে যান অর্থ প্রাপ্তির আশায়। মাইক মার্ককুলা চিনতে ভুল করেননি এই অসাধারণ মেধাবীদের। শুরুতেই তাঁদের দিয়ে দেন আড়াই লাখ ডলারের পুঁজি ।

এর ফলে ১৯৭৭ সালের ৫ জুন প্লাস্টিক কেসে রঙিন মনিটরে “অ্যাপল-২” বাজারে আসে। এই বছরেই প্রতিষ্ঠিত হয় “অ্যাপল ইনকরপোরেটস”। দুই বছরের মাথায় অ্যাপলের ব্যবসা দাঁড়িয়ে যায়। গোটা দুনিয়াজুড়ে তখন চলছিল পার্সোনাল কম্পিউটার কেনার হিড়িক। সেই জোয়ারে “অ্যাপল-২” এক নম্বরে আসতে বেশি সময় নেয়নি।

১৯৮০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ যখন স্টিভ জবসের সম্পদের পরিমাণ ২০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেল তখন তিনি মাত্র ২৫ বছরের তরুণ। জবস যে সব সময়ে সফল হয়েছেন তা অবশ্য নয়। আশির দশকের শুরুতে জবসের একক আগ্রহে অ্যাপল ‘লিসা’ নামের একটি পারসোনাল কম্পিউটার বাজারজাত করে। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল  ৯,৯৯৫ ইউএস ডলার। কিন্তু অধিক দামের কারণে তা বাজারে তেমন সুবিধা করতে পারেনি।

জবসের কল্যাণে একবিংশ শতকে অ্যাপলের নতুন পণ্য বের হওয়া উৎসবে রুপ নিয়েছিল, নতুন কোন পণ্য বাজারে আসার সাথে সাথে সাড়া দুনিয়া ব্যাপী হুলুস্থুল শুরু হয়ে যেত; Photo: medium.com

১৯৮৩ সালের অক্টোবরে জবস “ম্যাকিনটশ” কম্পিউটার নির্মাণের ঘোষণা দেন। ১৯৮৪ সালের জানুয়ারিতে ম্যাকিনটশ কম্পিউটার বাজারে আসে। জবস কখনোই টাকা-পয়সার কথা ভেবে কাজ করতেন না। তার পুরো চিন্তা জুড়ে থাকতো কীভাবে আরেকটি বৈপ্লবিক পণ্য সবার সামনে আনা যায়। কিন্তু জবসের এমন উদাসীনতায় তার প্রতি অনেকে বিরক্ত ছিলেন। যার ফলে ১৯৮৫ সালে অ্যাপল ইনকরপোরেশন ‘বোর্ড অব ডিরেক্টরসের’ সদস্যদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে তিনি অ্যাপল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি বিখ্যাত এনিমেশন স্টুডিও পিক্সার ও নেক্সট কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৯০ সাল নাগাদ জবস ‘নেক্সট স্টেশন’ নামের পার্সনাল কম্পিউটার বাজারজাত শুরু করেন। অপরদিকে পিক্সার ডিজনীর সাথে চুক্তি করে এনিমেটেড চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করে। এই পিক্সারই ১৯৯৫ সালে ‘টয় স্টোরি’ নামে একটি এনিমেটেড চলচ্চিত্র প্রযোজনা করে এবং ব্যপক সাফল্য লাভ করে। এরপর একে একে  এ বাগস লাইফ (১৯৯৮), টয় স্টোরি ২ (১৯৯৯), ফাইন্ডিং নিমো(২০০৩) ও টয় স্টোরি ৩ (২০১০) এর মতো জনপ্রিয় সব এনিমেটেড সিনেমা নির্মাণ করেছে পিক্সার। আজও পিক্সার এনিমেশন জগতে একেবারে প্রথম সারিতেই আছে।

১৯৯৬ সালে অ্যাপল ৪২৯ মিলিয়ন ডলারে নেক্সট কম্পিউটারকে কিনে নেয় এবং জবসকে পরামর্শক হিসেবে নিযুক্ত করে। মাঝে খন্ডকালীন সিইও হিসেবে থাকলেও ২০০০ সালে জবস অ্যাপলের স্থায়ী সিইও হিসেবে নিযুক্ত হন। ক্ষতির বৃত্তে আটকে পড়া অ্যাপল জবসের হাত ধরে আবার লাভের মুখ দেখতে শুরু করে।

ডিজাইনার হিসেবে ভীষণ দক্ষ জবস টাচস্ক্রিণকে সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করতে ২০০৭ সালের ২৯ জুন প্রথম আইফোন বাজারজাত করেন যা দ্রুততম সময়ে গ্রাহকের পছন্দের শীর্ষে উঠে আসে। এর আগে চমৎকার প্রযুক্তি আর আধুনিকতার মিশেলে জবস বাজারে আনেন আইপড ও আইপ্যাড। আইপড ডিজিটাল জগতে গানের বাজারে এক রকম বিপ্লবই এনে দেয়।

২০১১ সালের আগস্টে মাসে জবস অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন পদত্যাগ করেন। কিন্তু এরপরও তিনি কোম্পানির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে যান। জবস অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে বছরে মাত্র ১ মার্কিন ডলার বেতন গ্রহণ করতেন। ঠাট্টা করে বলতেন, অ্যাপল থেকে বছরে যে ১ ডলার পান তার ৫০ সেন্ট বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য এবং বাকি ৫০ সেন্ট পান নিজের কাজের জন্য।

বস্তুত তার ছিল অ্যাপেলের ৫,৪২৬ মিলিয়ন শেয়ার ও ডিজনির ১৩৮ মিলিয়ন শেয়ার। ২০১০ সালের ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী ৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের অধিকারী হয়ে ৪৩তম মার্কিন ধনী হিসেবে নির্বাচিত হন জবস।

ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯১ সালে লরেন পাওয়েলকে বিয়ে করেন। চার সন্তানের জনক ছিলেন স্টিভ জবস। ২০০৩ সালে জটিল প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারে চিকিৎসা করান জবস। ঐ সময় অস্ত্রোপচারও করা হয় তার। তিন বছর পর আবার তার টিউমার ধরা পরে এবং ২০০৯ সালে তাঁর যকৃত প্রতিস্থাপন করা হয়। ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর অগ্নাশয়ের ক্যান্সারে ভুগে মারা যান জবস।

এমন বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী জবসের ‘বিকামিং স্টিভ জবস’ নামক আত্মজীবনী বেরিয়েছে ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ । এছাড়া ২০১৩ সালে ‘দ্য রাইজ অব অ্যাপল ইনকরপোরেশন’ নামের চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে এই অসাধারণ মানুষটির জীবনের চড়াই উৎরাই। জবসকের নিয়ে বেরিয়েছে একাধিক চলচ্চিত্র ও ডকুমেন্টারি।

‘স্টে হাংরি, স্টে ফুলিশ’ ছোট্ট চার শব্দের এই উপদেশ তিনি দিয়েছিলেন তরুণদের। আর বোধকরি সারাজীবন এই কথাকেই মাথায় রেখে অসাধারণ সব প্রযুক্তি আমাদের মুঠোয় এনে দিতে পেরেছিলেন এই অসামান্য প্রতিভাধর মানুষটি। তাইতো তাঁর হাতে গড়া অ্যাপল এর অসাধারণ সব প্রযুক্তিপণ্যের প্রতি মানুষের দুর্নিবার আকর্ষণ আর পিক্সারের এনিমেশনের দুনিয়াজোড়া খ্যাতি তাকে অমর করে রাখবে অনেক শতাব্দী।

লেখক- মাহের রাহাত

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *