NEWS TUBE বাংলাদেশ সাক্ষাৎকার

‘মেড ইন বাংলাদেশ’-সুগন্ধির বিশ্ববাজার চান মাহাতাবুর নাসির (ভিডিও)1 min read

আগস্ট ২৫, ২০১৮ 3 min read

‘মেড ইন বাংলাদেশ’-সুগন্ধির বিশ্ববাজার চান মাহাতাবুর নাসির (ভিডিও)1 min read

Reading Time: 3 minutes

‘মেড ইন বাংলাদেশ’-সুগন্ধির বিশ্ববাজার চান মাহাতাবুর রহমান নাসির।

বাংলা ইনফোটিউব এর সাথে আলাপ কালে তিনি জানিয়েছেন, দেশ এবং প্রবাসীদের নিয়ে তার বিশাল কর্মজীবনের কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাহেদ আলম। 

‘অনেক বছর বিদেশে কাটিয়েছি, এখনও কাটাচ্ছি তবে আমি চাই আমার এই শেষ সময়গুলি আমি দেশের জন্য কাজ করি। আমি আমার মেধা দিয়ে যে ব্যবসায়িক সুনাম তৈরী করেছি, সুগন্ধি ব্যবসার বিশ্ব বাজারে অবস্থান করে নিয়েছি, আমি চাই সেই পন্য এবার পরিচিত পাক ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নামে। বলছিলেন, দুবাইয়ের বিজনেস টাইকুন নামে পরিচিত প্রবাসী বাংলাদেশী মাহাতাবুর রহমান নাসির সিআইপি। তিনি বাংলাদেশে এনআবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও। বাংলাদেশে তিনি আল হারমাইন সুগন্ধি উৎপাদন এবং এখান থেকে বিশ্বের ৬৫টি দেশে তা বাজারজাত করণের জন্য সম্প্রতি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।

 

‘আমি দেশের জন্য কাজ করতে চাই। দেশে একশটি অর্থনৈতিক জোন বা ইপিজেড দেয়ার প্রস্তার করেছে সরকার। আমি চাই, এর একটি যদি আমরা পাই, তাহলে, বিশ্বে পারফিউম এর যে বাজার তার অনেকটা আমরা বাংলাদেশ থেকে উৎপাদন করতে পারবো, এবং সেখানে লেখা লাকবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’। এখন এই সুগন্ধি আমরা উৎপাদন করছি সৌদি আরব এবং দুবাইতে। এবং ওখান থেকেই আমরা বিশ্বের অর্ধের বেশি দেশে সেটা ছড়িয়ে দিচ্ছি’ – বলছিলেন মাহাতাবুর রহমান নাসির।

দেশের সর্বচ্চ করদাতা হিসেবে স্বীকৃত মাহাতাবুর রহমান সিআইপি  দুবাই এর আল হারমাইন পারফিউম গ্রুপ আর বাংলাদেশে এন আর বি ব্যাংক এর চেয়াম্যান ছাড়াও,সিলেটে আল হারমাইন হাসপাতাল এর চেয়ারম্যান, আল হারমাইন টি কোম্পানীর চেয়ারম্যান , ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিক এর ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর বাইরে প্রবাসে আরো অন্তত ৫ টি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্যে তার ব্যবসার ব্যপকতা আর বিষ্ময়কর উথ্বান নিয়ে দেশে প্রবাসে অনেকর শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকা একাধিক প্রতিবেদন করেছে। দুবাইর এর খালিজ টাইমস তাকে নিয়েও নিবন্ধ ছেপেছে। সেসব বিষয় নিয়েই প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সাথে এক খোলামেলা আড্ডার আমন্ত্রন গ্রহন করেন শিল্পপতি মাহতাবুর রহমান।

খুব সাধারণভাবেই তার জীবনের পথচলা শুরু। বাবার হাত ধরেই সুগন্ধি ব্যবসায় নামেন মাহতাবুর রহমান। তার বাবার নাম মরহুম মওলানা কাজী আবদুল হক। সিলেটের বিয়ানীবাজারের নাটেশ্বর গ্রামে তার গ্রামের বাড়ি। সিলেটের সুজানগরে আগর কাঠ হতো। ওই আগর কাঠ দিয়ে অনেক মূল্যবান আতর হতো। কিন্তু বাংলাদেশে ওই আগর কাঠের বাজার ছিল না। ভারতসহ আশপাশের দেশগুলোতে আগর কাঠের বাজার ছিল।

১৯৫৬ সালে মাহতাবুর রহমানের বাবা যখন প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে হজ করতে যান তখন তিনি সঙ্গে করে বেশ কিছু আগর কাঠ নিয়ে গিয়েছিলেন। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের কাছে বাংলাদেশিদের আগরের জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। এ জনপ্রিয়তা দেখে তার বাবা সেখানে সুগন্ধির ব্যবসা শুরুর পরিকল্পনা করেন। ১৯৭০ সালে তিনি পবিত্র মক্কা নগরী থেকে সুগন্ধির ব্যবসা শুরু করেন। মাহতাবুর রহমান ১৯৭৫ সালে প্রথমবার বাবার সঙ্গে সৌদি আরবে যান। সে সময় তিনি একেবারেই তরুণ। সবেমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বিএ পরীক্ষা দিয়েছেন। সুগন্ধি ব্যবসায় সাফল্য ধরা দিতে খুব বেশি সময় লাগেনি তার। ক্রমান্বয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন মাহতাবুর রহমান।

‘আমার বাবা বলতো, স্বপ্নের সীমা রেখ না। তিনি নিজে এই চর্চাও করতেন না। বাবার ব্যবসা ছিল আগর কাঠের। আমি ভারত থেকে সৌদি আরবে যাবার পথে দুবাই তে ১ ঘন্টার জন্য থেমেছিলাম একজন ট্রানজিট যাত্রী হিসেবে। মার্কেটটি ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম। এর পরে আরো একবার আমি ট্রানজিট যাত্রী হিসেবে দুবাই মার্কেট ঘুরে দেখে ভাবছিলাম যে, এখানে একটি দোকান নেয়া যায় কিনা। সেই যে বড় স্বপ্ন দেখলাম, সেখান থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি’- তার ব্যবসা সম্প্রসারণের গল্প বলছিলেন এভাবেই।

এর পর সৌদি আরবে আল হারমাইন এর পারফিউম উৎপাদন কেন্দ্রটি আমিরাত সরকারের সহযোগীতায় তিনি সরিয়ে নিয়ে আসেন দুবাই এর একটি জনমানব বিহীন মরু এলাকায়।যখন তিনি ঐ জমি বরাদ্দ পান সেখানে কোন মানুষের বসবাস ছিল না। ঐ জমি ভরাট করে সুগন্ধ উৎপাদন শুরু করার পর সেখানে এখন বিশাল কর্মজজ্ঞ আর একই সাথে নানান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সরব পদচারণায় মুখরিত।

‘ আমরা যখন সেখানে ব্যবসা শুরু করি তখন আমাদের অনেক প্রতিযোগীই ছিল। এখনো আছে, তবে আমরা তাদের থেকে অনেক এগিয়ে আছি কারণ, আমাদের যে পণ্য সেটি সব সময় আধুনিক। সুগন্ধি যে শুধু উৎসব বা উপলক্ষে নয়, বরং প্রতিদিনের ব্যবহারের একটি পণ্য সেটি আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি। সুগন্ধিকে স্বল্প মুল্যের পাত্রে বাজার জাত করনের বদলে আমরা এর আঙ্গিক বদলে দেয়ার জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ করি। এখন পুরো মধ্যেপ্রাচ্যে রাজপরিবারের উপডৌকন হিসেবে ব্যবহৃত হয় আমাদের পারফিউম গিফট বক্স। এমনও দেখা গেছে কোন কোন রাজপরিবারের অনুষ্ঠানে একেকজন ১ লক্ষ ডলারের সুগন্ধি উপহার বাক্স ক্রয় করেছেন। রাজপরিবারের তরফেও যখন অন্য কাউকে উপহার দেয়া হয় তখনও আমাদের আল হারমাইন সুন্ধিকে তারা গিফট বক্স হিসেবে ব্যবহার করেন। এভাবে আমরা এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সুগন্ধি বাজার নিয়ন্ত্রনে নিয়েছি’ – বলছিলেন মাহাতাবুর রহমান।

বাংলাদেশে সিলেটের বাসিন্দা শিল্পপতি মাহতাবুর রহমান নাসির ২০১৬ সালে এনআরবি ব্যাংক এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের ৩ বারের শীর্ষ সিআইপি এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী হিসেবেও তার পরিচয় আছে।

বাংলাদেশে তিনি যতটা পরিচিত, সমাদৃত, বিশ্বব্যাপী তার বিচরণ আরও বেশি।ব্যবসায়ের মূল কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাত হলেও বর্তমানে সেটি ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। আরব আমিরাতে বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহতাবুর রহমান নাসির পরপর চারবার বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বা সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে অন্যতম ধনী ব্যক্তি হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *