খালেদার রায় নিয়ে উৎকন্ঠা নিউইয়র্কেও


বিশেষ প্রতিনিধি

৮ ফেব্রুয়ারী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলা দূর্নীতি মামলার রায় কি হবে সেটা নিয়ে একদিকে যেমন জল্পনা কল্পনা চলছে দেশে, তেমনি তার উৎকন্ঠাও আছে দলীয় নেতাকর্মীদের মনে। হাজার মাইল দুরে, নিউইয়র্কের রেস্টুরেন্ট আর বাঙালী অধ্যুষিত পাড়ায় মহল্লায় এই রায়ে খালেদা জিয়ার জেল জরিমানা হয় কিনা সেটা নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠায় আছেন দল মত নির্বিশেষের মানুষ। অনেকটা নির্বাচনের আগের বছরে রাজনীতিতে সংঘাত দেখতে চাননা বেশির ভাগ মানুষ। সে ক্ষেত্রে, বিশেষ আদালতের মাধ্যমে এমন কোন রায় না আসুক যেটাতে রাজপথ আবার রক্তে রন্জিত হোক-এই মতের পক্ষেই পাওয়া গেছে বেশিরভাগ মানুষ।
প্রবাসের পরিচিত মুখ জালালাবাদ এসোসিয়েশন এর সভাপতি বদরুল খানের মতামত হলো ‘ দেশের উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। বিরোধী দলকে ঘায়েল করে কোন ক্ষমতার ভারসাম্য আসে না। সেক্ষেত্রে আমরা চাইনা, আরেকটি সংঘাতপূর্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বেগম খালেদা জিয়া একটি বড় দলের নেতা সেটা মনে রাখাই ভাল। যেই মামলার বিচার হচ্ছে,একই ধরনের মামলা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও ছিল।সেগুলি বিচার কার্যতালিকায় নেই, তাই স্বভাবতই এমন মামলার রায়ে যদি কাউকে শাস্তি দেয়ার মত পরিস্থিত তৈরী হয় সেটাতে অশান্তি আরো বাড়তে পারে’
একই মন্তব্য নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জন্মভুমি পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদারের। তার মতে, প্রকৃত বিচারের মাধ্যমে যদি দোষী কেউ শাস্তি পান সেটা এক রকম বিষয়, আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনেদিত ভাবে যদি কাউকে শাস্তি দেয়া হয় সেটা আরেক রকম বিষয়। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যদি বেগম জিয়া শাস্তি পান সেটি কোন মানুষ-ই গ্রহন করবে না বলে মত রাখেন রতন তালুকদার।
আদালতের মাধ্যমেই তো সাজা হতে পারে, তাহলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কেন রায় দেয়া হবে বলে মনে করছেন’ এমন প্রশ্নের উত্তরে রতন তালুকদার মৃদু হেসে বলেন, ‘এই বিশেষ আদালতের নিরপেক্ষতা সময়ে সময়ে ক্ষুন্ন হয়েছে বলেই অনেকের অভিযোগ আছে।আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে আদালত যে প্রভাবিত হয় সরকারের ইচ্ছায় সেটার উদাহারণ তৈরী হয়েছে এর আগে।সুতরাং আরো উন্মুক্ত করে বলার কিছু নেই’।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত ফকরুদ্দীন আমলের তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ টি দূর্নীতি মামলা হয়।তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও প্রায় ৫ টি মামলা হয়। ঐ একই সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও প্রায় ১৪টি দূর্নীতি মামলা হয়, যেগুলো তিনি সরকার গঠনের পর ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য করা মামলা’ বিবেচনায় খারিজ হয়ে যায়। তবে, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা গুলো চলমান। বকশিবাজারে বিশেষ আদালতের মাধ্যমে গত কয়েক বছর ধরে শুনানী হয়েছে এই মামলার। তার একটি কথিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলার রায় ঘোষিত হবে ৮ ফেব্রুয়ারী। আর এই রায়কে কেন্দ্র করে বেশ উত্তপ্ত ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার রায় কী হবে সেটা আদালত জানে। কিন্তু কী রায় হবে সেটা জানার আগেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব (বিএনপির মহাসচিব) আদালতকে হুমকি দিচ্ছেন, সেটা বিএনপি করতে পারে না। এ হুমকির মাধ্যমে তারা আদালত অবমাননা করেছে। রায়কে ঘিরে কোন নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হলে মোকাবেলা করার জন্য সরকার লাগবে না, বরং জনগণই প্রতিরোধ করবে।’
রোববার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের কয়লাঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর (নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দর) নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
তার এক দিন আগে, রায় নিয়ে ’আগুন জ্বালালে’ সেই আগুনে তাদের নিজেদেরই পুড়তে হবে। সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘রায় ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলা বা ধংসাত্মক কার্যকলাপের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ‘

অন্যদিকে, রায়ে বেগম জিয়ার সাজা দেওয়া হতে পারে এমন আশংকায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে বিএনপিতে। সাজা হলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের সর্বাত্মক আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের নেতা-কর্মীরা। রাজপথে তাত্ক্ষণিক বড় মাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখানোর পাশাপাশি স্বেচ্ছায় কারাবরণ, হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে দলটির মধ্যে চলছে আলোচনা। সাংগঠনিক, নির্বাচনী প্রস্তুতিসহ যাবতীয় কার্যক্রম আপতত বন্ধ রেখে এখন আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে দলটির ভিতরে। দলের নেতারা বলেছেন,রায় নিয়ে সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইলে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি হবে ফয়সালার দিন। সরকারের পতনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, দেশে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা-অরাজকতা বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করা হলে তা প্রতিরোধ করা হবে।

এসব কথা বার্তায় চিন্তিত দেশে পরিবার আর স্বজন রেখে আসা প্রবাসীরা। অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক পরিচয় উহ্য রেখেই তারা দেশের শান্তিপূর্ন রাজনৈতিক সহাবস্থান সৃষ্টি করতে সরকারকে তাগিদ দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট

সর্বাধিক পঠিত