বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ইন-স্ক্রীন ফিঙ্গার প্রিন্টের সাথে আরো যা যা থাকবে ২০২০- এর আইফোনে1 min read

সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ 3 min read

author:

ইন-স্ক্রীন ফিঙ্গার প্রিন্টের সাথে আরো যা যা থাকবে ২০২০- এর আইফোনে1 min read

Reading Time: 3 minutes

সম্প্রতি বাজারে অবমুক্ত হয়েছে অ্যাপলের নতুন দুই আইফোন; আইফোন ১১ এবং আইফোন ১১ প্রো। ফোন দুটির পক্ষে বিপক্ষে অনেক আলোচনা হচ্ছে দুনিয়াব্যাপী। বেশিরভাগ সমালোচনা হচ্ছে এর ক্যামেরা পজিশনিং নিয়ে। কারো কারো মতে এটি অ্যাপলের ডিজাইন করা সবচেয়ে অবহেলিত ক্যামেরা প্যানেল ডিজাইন। কিন্তু আপনারা তো জানেনই অ্যাপল কখনো একটি মডেলের সংস্করণ নিয়ে পরে থাকে না বরং প্যারালালি তারা পরের মডেলগুলো কেমন হবে তা নিয়েও গবেষণা চালিয়ে যায়। বিভিন্ন সূত্রে অ্যাপল জানিয়েছে, ২০২০ সালের নতুন আইফোন ছাড়িয়ে যাবে সব ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের ফিচারকে।

অ্যাপলের বেশ কিছু সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২০২০ সালে আইফোনের যে সংস্করণটি বাজারে আসতে যাচ্ছে সেটিতে সংযোজিত হতে যাচ্ছে ইন-স্ক্রিন ফিঙ্গারপ্রিন্ট। অর্থাৎ আপনি ডিসপ্লেতে টাচ করেই আনলক করতে পারবেন আপনার আইফোনটি। বর্তমানে প্রযুক্তিটি অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ এবং তাদের বিদেশী সহযোগী সংস্থার একাধিক টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। তবে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন এই গবেষণায় আরো বেশি সময় লাগতে পারে কারণ অ্যাপল চায় তাদের ভোক্তাদের হাতে নতুন কিছু উপহার দিতে যা নিয়ে তাদের কোন অভিযোগ থাকবে না।

ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি আমরা ইতোমধ্যে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটেড স্মার্টফোনগুলোতে দেখেছি। শুধু তাই নয়, স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্স, হুয়াওয়ে টেকনোলজিস, ওপ্পো এবং শাওমির সর্বশেষ ফ্ল্যাশশিপ স্মার্টফোনগুলো এই বৈশিষ্ট্যযুক্ত। এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন ডিভাইসের বায়োমেট্রিক সুরক্ষা বজায় রাখে তেমনি ডিসপ্লের চারপাশে অতিরিক্ত বেজেলের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করে।

২০১৩ সালে অ্যাপল তাদের আইফোনগুলোতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানিং প্রযুক্তি প্রবর্তন করে, এবং গবেষকদের স্মার্টফোনে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে তারাই ছিলো সর্বপ্রথম। মূলত এসময় একটি টাচ আইডি সিস্টেম আইফোনের হোম বোতামে সংযুক্ত করা হয়, যা ডিভাইসটি আনলক করতে, অর্থ প্রদানের অনুমোদনের জন্য এবং অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড অনুমোদনের জন্য ব্যবহৃত হতো। নিঃসন্দেহে তখন এই প্রযুক্তি অ্যাপলকে তার গতি এবং নির্ভরযোগ্যতাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

২০১৭ সালে আইফোন এক্স লঞ্চের সাথে সাথে লঞ্চ হয় ফেস-স্ক্যানিং সেন্সর যা কিনা টাচ আইডি এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। আইফোনের প্রতিপক্ষের কাছে এটা ছিলো একটি প্রতিযোগিতামূলক পদক্ষেপ এবং এর কিছুদিনের মাথায় প্রায় প্রতিটি স্মার্টফোন নির্মাতা তাদের ফোনে ফেস-স্ক্যানিং ব্যবহার শুরু করে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতায়, আইফোন ব্যবহারকারীদের সম্পুর্ন নতুন অভিজ্ঞতা দিতে ২০১৮ সাল থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নেমেছে অ্যাপল। বলা হচ্ছে তাদের এই গবেষণায় সফলতা এলে ২০২০ সালেই তারা ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হতে যাচ্ছে।

২০২০ সালে আগত এই আইফোনের মূল্য থাকবে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে এমনটাই বলছে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ। ইতিপুর্বে স্বল্পমূল্যের আইফোন হিসেবে আইফোন এস.ই নিয়ে তারা একই ধরণের একটি গবেষণা করা করেছিল যা কিনা ওই সময়ের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন বাজারে একচেটিয়া ব্যবসা করে।

২০১৮ সালে যখন আইফোন এক্সআর এবং আইফোন এক্সএস অবমুক্ত করা হয় তখন অ্যাপলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল টাচপ্যাডের তুলনায় ফেস-আনলক প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের বেশি সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদান করতে সক্ষম। কারণ আইফোন এক্স আর এবং আইফোন এক্স এস এ কোন প্রকার টাচ আনলক যুক্ত ছিল না। ঠিক তারই এক বছর পরে অ্যাপল আবার বলছে ইন-স্ক্রিন টাচ প্যানেল একজন ব্যবহারকারীর বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যা কিনা এই শতাব্দীর সেরা আবিষ্কার। অ্যাপলের এমন মত পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরার আশঙ্কায় তারা ফেস-আনলকের ফিচারটিও অক্ষত রাখছে এই নতুন আইফোনে। নতুন এই আইফোনে থাকবে টাচ প্যানেল নিয়ন্ত্রিত অ্যাপ লকের সুবিধা। এছাড়া সুরক্ষিত পেমেন্টের জন্য ব্যবহার করা যাবে এই বায়োমেট্রিক এই প্রযুক্তি।

এছাড়া নতুন এই আইফোনে থাকছে উন্নত ফটগ্রাফির জন্য থ্রী-ডি ক্যামেরা যা দিয়ে দিয়ে ৪কে রেজুলুশনে ভিডিও করা যাবে। এই ক্যামেরাতে ব্যবহার করা হবে লেজার প্রযুক্তি সম্বলিত অগমেন্টেড রিয়ালিটি লেন্স। থাকছে ৫জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার সুবিধা। অ্যাপলের শক্তিশালী চিপসেটের নতুন একটি সংস্করণ যুক্ত করা হবে এই আইফোনে। এই প্রসেসরের পিন থিকনেস মাত্র ৫ ন্যনোমিটার যা কিনা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন চিপ এবং লো-পাওয়ার কন্সাম্পশন করে। এতে থাকতে পারে ৩.৫ মিলি অডিও জ্যাক যা কোটি কোটি আইফোন ব্যবহারকারীর বহুদিনের চাওয়া।

এখন দেখার বিষয় অ্যাপলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী স্যামসাং এই আইফোনকে টেক্কা দেয়ার জন্য কি কি নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়। কেননা ইতিপুর্বে স্যামসাং এস সিরিজ এর সামনে আইফোনের অধিকাংশ ফ্ল্যাগশিপ মার্কেট হারিয়েছে। তবে এবার অ্যাপল বলছে স্বল্পমূল্য এবং অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের মন জয় করে নিতে বাধ্য।

লেখক- সালেহীন সাকিব

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *